অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অঙ্কের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪০ হাজার কোটি।’বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, সেটা মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস। এখানে যোগ (ধনাত্মক) কিছু নেই, সবগুলো ঋণাত্মক। অনেক বিল তারা পরিশোধ করে যায়নি। পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এখন সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে।’শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম মোরশেদ হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অসীম বড়ুয়া, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবদুল মান্নান রানা ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ।অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা হতদরিদ্র, যাঁদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সে জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে রোগী পাঠাব। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যাঁরা হতদরিদ্র, তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।আমির খসরু বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।’আমির খসরু আরও বলেন, ‘আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নাগরিক অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা এত দিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।’দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবেও অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।’অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও সময় লাগবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন, আমি বলেছি দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।’
৪ মিনিট আগে
সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকারÑ সব জায়গাতেই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের কাছে ইজারা’ দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।তিনি আরো বলেন, অতীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচও বেড়েছে।তিনি আরো বলেন, বাজেট যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ায় এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরেন।প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
২ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা বন্ধে দ্রুত কোনো সমঝোতার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৪ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ২৬ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ২৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। খবর রয়টার্সের।সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর পেছনে ইরান যুদ্ধের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।জার্মান ব্যাংক কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আবারও অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার আশা ফিকে হয়ে গেছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, তেহরানের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘কোনো আস্থা নেই’। তবে ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে ইরান আলোচনায় আগ্রহী।আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান আবার যুদ্ধেও ফিরতে প্রস্তুত, একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথেও প্রস্তুত রয়েছে অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে।ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি একমত হয়েছে যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি সৌদি আরব, ইরাক ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রধান জ্বালানি রপ্তানি পথ।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সংঘাতের কোনো কারণ ছিল না এবং এটি চলতে থাকারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।ট্রাম্প আরও বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে আগ্রহী এবং ইরানি তেল কেনা চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও তিনি বিবেচনা করতে পারেন।বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং নতুন সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকির দিকে ফিরে গেছে।ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
৫ ঘন্টা আগে
দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। এতে এই মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা।শনিবার (১৬ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি।নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে সর্বশেষ শুক্রবার (১৫ মে)দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং কমানো হয়েছে ৩০ বার।সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভরিতে ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৯ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হলো।
৫ ঘন্টা আগে