নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:১৯:৫৪
ইকনের পাশে শিক্ষামন্ত্রী, পরীক্ষাকালে চাকরি নয়
বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। পরীক্ষাকালীন সময়ে তাকে আর চাকরি করতে হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে মন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফারহান ইশতিয়াক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে চাকরিতে ডিউটি করতে না হয়, সে জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষাসহ তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ইকনের সংগ্রামী জীবনের গল্প প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুপুরে তিনি মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অত্যন্ত নাজুক পারিবারিক অবস্থার মধ্যেই ইকন তার মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করেন। তাদের আদি বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও দাদার চাকরির সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বসবাস করছে।
বাবার মৃত্যুজনিত শোকের মধ্যেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ইকন সেদিন রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে ডিউটিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনের ফাঁকে বুথের ভেতরেই বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।
ইকনের এই সংগ্রামের কাহিনি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষাকালে তার কর্মদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন।