সুজিত চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ রাত ০৭:৫৮:৪১
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে হরমুজ প্রণালী, জাহাজ চলাচল শুরু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে সৌদির ৩টি সুপারট্যাঙ্কার এবং ফ্রান্সের ১টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবাহী ট্যাঙ্কার।
মেরিটাইম অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে সৌদি আরবের পতাকাবাহী ৩টি বিশাল সুপারট্যাঙ্কার নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। একই সাথে কাতার এনার্জির চার্টার্ড করা ফ্রান্সের পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাঙ্কার ‘মরাইখ’ (Mraikh) পাকিস্তান অভিমুখে যাওয়ার পথে হরমুজ প্রণালী পার হয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়া প্রথম ফরাসি এলএনজি ট্যাঙ্কার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিজেদের অবস্থান লুকিয়ে রাখার জন্য ট্র্যাকিং সিস্টেম (AIS) বন্ধ করে রাখত। তবে চুক্তি সইয়ের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। এখন জাহাজগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রচার করে এই প্রণালী দিয়ে উন্মুক্তভাবে যাতায়াত করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই রুট দিয়ে যাতায়াত করত, যুদ্ধের পর তা ৯০ শতাংশের বেশি কমে দৈনিক মাত্র ১০টিতে নেমে আসে।
অবশেষে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পর এই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলোর মতে, জলপথ পুরোপুরি নিরাপদ করা এবং মাইম অপসারণের কাজ বাকি থাকায় পরিস্থিতি প্রাক-যুদ্ধাবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির মধ্যেও লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে যুদ্ধ সমাপ্তির যে প্রতিশ্রুতি মার্কিন প্রশাসন দিয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।