আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৩:২৭
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বড় সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতায় কাতার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী উত্তেজনা প্রশমিত করে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে টানা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। এরই মধ্য সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির জবাব ও বার্তা নিয়ে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার ইরানে ঝটিকা সফর করে। এর পরের দিনই একটি ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য দোহায় পৌঁছায়। কাতার কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নয়, বরং স্থগিত হওয়া কূটনীতি ও আলোচনা প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ সোমবার রাতে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল পুনরায় তেহরানে উড়ে যায়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থানের পর কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান শেষে তারা দ্রুত দোহায় ফিরে আসে। কাতারি প্রতিনিধিদের এই তাৎক্ষণিক সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়ার মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দু’পক্ষের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও অন্তত দুই বার তারা যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত ছিল, ঠিক তখনই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে কেবল কথার কথা নয়, আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অবসান, অবৈধ নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা বা বাজেয়াপ্ত করা ইরানি সম্পদ ফেরত এবং বিশ্ববাজারে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করছে তেহরান।