নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০:৩২:১১
রাশিয়ার পক্ষে ১৭’শ আফ্রিকান সেনা লড়ছে: ইউক্রেন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে ১৭শ’র অধিক সেনা লড়াই করছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার
রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করেছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের মাধ্যমে এই
যুদ্ধে আফ্রিকার নাগরিকদের টেনে আনছে রাশিয়া। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৭৮০ জনেরও বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।”
আফ্রিকা মহাদেশের
৩৬টি দেশ থেকে এই সেনাদের আনা হয়েছে— উল্লেখ করে সাইবিহা বলেন, চাকরির প্রতিশ্রুতি
দিয়ে দরিদ্র আফ্রিকান যুবকদের প্রথমে রাশিয়া আনা হচ্ছে এবং তারপর সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত
করা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে
সাইবিহার দাবিকে সমর্থন করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান,
রুশ বাহিনীতে যেসব আফ্রিকান সেনা লড়াই করছেন— সৈনিক কিংবা যোদ্ধা হিসেবে তাদের কোনো
অতীত অভিজ্ঞতা নেই। ডার্ক ওয়েবে সাধারণ চাকরির প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায়
নেওয়া হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
“(রুশ বাহিনীতে কর্মরত)
এই আফ্রিকান সেনাদের অধিকাংশেরই এর আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীতে
কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা নেই। তাদের কোনো অতীত প্রশিক্ষণও নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার
শিকার হয় এবং শেষে তাদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়”, সংবাদ সম্মেলনে বলেন আবলাকাওয়া।
আফ্রিকার তরুণ-যুবকদের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ঘানা এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান
ইউনিয়ন কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া
উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা
এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২
সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।