নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:২৫:০১
ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি মার্কিন সেনা দপ্তরের
ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে স্থল অভিযানের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান যুদ্ধের ‘নতুন ধাপ’ তৈরি করতে পারে, যা চলমান সংঘাতের প্রথম চার সপ্তাহের তুলনায় মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত স্থল অভিযান পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন না হলেও এতে বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত পদাতিক সেনাদের সীমিত অভিযান থাকতে পারে। এসব অভিযানে সেনাদের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল হামলা এবং ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইসের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, সর্বাধিনায়কের সামনে বিভিন্ন বিকল্প রাখতেই পেন্টাগন প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আলোচনায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব অভিযান কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাতে চান না। একইসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং স্থলবাহিনী ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর বিপক্ষে, আর মাত্র ১২ শতাংশ এটির পক্ষে।
সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে স্থল অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি এবং সীমিত এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনার জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।