নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০:১৬:৩৯
অবশেষে বন্ধ-ই হয়ে গেলো কুখ্যাত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশের প্রতীক সেই কুখ্যাত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ অবশেষে হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে পুরোপুরি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘সানডে টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধুনিক সংস্করণটি এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
একসময়কার প্রতাপশালী এই কোম্পানিটি ১৮৫৭ সালের সিপাহি
বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ রাজের সরাসরি শাসনের অধীনে চলে যায় এবং কার্যত তাদের বাণিজ্যিক
আধিপত্য হারায়। তবে ইতিহাসের এক অদ্ভুত বাঁক হিসেবে ২০১০ সালে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত
উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা এই কোম্পানিটিকে নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তিনি লন্ডনের
অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে প্রায় ২,০০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল স্টোর খোলার মাধ্যমে
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামে উচ্চমূল্যের খাবার, চা এবং পানীয়ের খুচরা ব্যবসা শুরু
করেন। লক্ষ্য ছিল ঐতিহাসিক নামটিকে ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে একটি লাক্সারি ব্র্যান্ড
গড়ে তোলা।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতির নথিপত্র বিশ্লেষণ করে
দেখা গেছে, প্যারেন্ট কোম্পানি ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপ’-এর কাছে এদের মোট বকেয়া
ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,০০,০০০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার
সমান। এছাড়া কোম্পানির ওপর বড় অঙ্কের করের বোঝা চেপেছে, যার পরিমাণ প্রায় ১,৯৩,৭৮৯
পাউন্ড। এমনকি সাধারণ কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা বাবদ বকেয়া রয়েছে আরও ১,৬৩,১০৫
পাউন্ড। চরম লোকসান এবং ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া নাম বহনকারী অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোও
ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে।
সঞ্জীব মেহতা যখন এই কোম্পানিটি কিনেছিলেন, তখন তিনি গর্ব
করে বলেছিলেন যে একসময় যারা ভারতকে শাসন করেছিল, আজ একজন ভারতীয়ই সেই কোম্পানির মালিক।
কিন্তু আধুনিক বাজার ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার টিকে থাকতে না পারা এবং অব্যবস্থাপনার
কারণে এই ঐতিহাসিক ব্র্যান্ডটি আর আলোর মুখ দেখতে পারল না। লন্ডনের মেফেয়ারে অবস্থিত
তাদের প্রধান স্টোরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজকীয় ঐতিহ্যের মোড়কে ব্যবসা করার শেষ চেষ্টাও
ব্যর্থ হলো। এখন দেউলিয়া আদালতের মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ নিলামে তুলে পাওনাদারদের
ঋণ পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।