আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৬:২০:৩৬
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
সিরিয়ায় প্রায় ১৪ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ ও চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে সাবেক ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের মামলার ঐতিহাসিক রায়। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই অপরাধে বাশারের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তার সাবেক প্রধান ও আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১১ সালে দেরায় বিক্ষোভকারী ও শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানোর দায়ে অভিযুক্ত নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে আটক করে সিরীয় কর্তৃপক্ষ। বিচারক যখন রায় পড়ছিলেন, তখন বন্দীর পোশাকে খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজিব। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো।
রায়ে বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান উল্লেখ করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণে স্পষ্ট যে, যুদ্ধের সময় সংঘটিত এসব অপরাধের মূল নির্দেশদাতা ও ‘সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এসব অপরাধে ব্যবহার করেছিলেন।
দামেস্ক থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধিরা জানান, এই রায় দীর্ঘদিনের নিপীড়িত সিরীয় জনগণের মানসিক ক্ষত নিরাময়ে ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। বহু বছর ধরে সন্তানহারা ও বাস্তুচ্যুত মানুষ এই বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ রায় আসাদ সরকারের সময়ে অপরাধে জড়িত অন্যান্য আসামিদের বিচারের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী আইনি নজির হয়ে থাকবে।