নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০:০৬:০৫
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ: নিহত ১৩৩
পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ সেই যুদ্ধেরই অংশ।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় কমপক্ষে
১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন ২ শতাধিক। এ ছাড়া আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর
গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ইতোমধ্য ধ্বংস করা করা হয়েছে।
২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি।
এক্স বার্তায় তিনি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ থেকে আফগানিস্তানের
বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’
শুরু করেছেন পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী
কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু
করা হয়েছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো
হামলায় আফগান তালেবানের আস্তানাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
চিত্রল সেক্টরে আফগান বাহিনীর একটি চেকপোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।
পাকিস্তানের ভাষ্যমতে, এর আগে আফগান বাহিনী পাক-আফগান সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি
চালিয়েছিল, যার জবাবেই এই অভিযান।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে।”
২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানের আর্মি।
এক্সবার্তায় মোশাররফ জাইদি জানিয়েছন, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং যারা নিহত হয়েছে— তারা সবাই টিটিপির যোদ্ধা।
তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “এর বদলা আমরা নেবো।”
বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে অপহরণ করে আফগান সেনারা। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
সীমান্ত এলকায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।
সূত্র : ডন, এনডিটিভি