নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০২:৪৯:৫৫
হরমুজ প্রণালি খোলার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘে সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন এই পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি নাকচ করে দেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর এএফপির।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছেন এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ করবে না বলে ট্রাম্প মনে করেন। তিনি ইরানে আবারও নতুন করে বোমাহামলা চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। এমনকি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের ছবি পোস্ট করে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের পেশ করা প্রস্তাবে লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ৭ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মেনে নিলেই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেন মহেবি জানান, ইয়েমেন সংঘাত বন্ধ করাও ইরানের অন্যতম দাবি ছিল।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হলেও পরবর্তীতে বাণিজ্যিক জাহাজে গোলাবর্ষণ ও মার্কিন পাল্টা হামলায় পুরো নৌপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।