নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:১০:০৫
সমঝোতা স্মারক ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’: বাঘের গালিবাফ
যুদ্ধ অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়; বরং এটি সাহসী ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও শক্তিমত্তার ফলাফল।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোরই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার।
গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসদু পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে সমঝোতা স্মরকে সই করেন।স্বাক্ষরিত চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে।
প্রায় ১৮ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।
এরপর সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ৬০ দিনের জন্য জ্বালানি তেল রফতানিতে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।