নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:২৩:৫০
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুজ মিসাইলের পুরো মজুদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী ‘জেএএসএসএম-ইআর’ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় পুরো মজুদই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি অন্য অঞ্চলের সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত ভাণ্ডার থেকেও এখন এই মিসাইল সরিয়ে আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের মজুদ থেকে এসব অস্ত্র সরিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন যুদ্ধক্ষেত্র ও যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল মজুত ছিল। গত চার সপ্তাহের অভিযানে ইতিমধ্যে ১০০০-এর বেশি মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীগুলোর জন্য মাত্র ৪২৫টি মিসাইল অবশিষ্ট থাকবে, যা অত্যন্ত নগণ্য। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুদ দিয়ে মাত্র ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি মিশন পরিচালনা করা সম্ভব। অথচ বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।
যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একটি এ-১০ অ্যাটাক জেট এবং দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় ১২টিরও বেশি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। ফলে আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভাষণে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা ওদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গুঞ্জন উঠেছে, ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা। তবে অত্যাধুনিক মিসাইল ফুরিয়ে আসায় এখন পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে সস্তা জেডিএএম বোমা ফেলার কৌশল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বসে নেই ইরানও। আঞ্চলিক দেশগুলোর তথ্যমতে, ইরান ইতিমধ্যে ১৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪০০০-এর বেশি শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও শেষ হয়ে আসছে। বিশ্বখ্যাত লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা যৎসামান্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।