মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:৫৬:২৯
শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও বিদেশি মদ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গত ৩০ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারপোর্ট এ-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BG-148-এর যাত্রীদের ব্যাগেজ গ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে তল্লাশি করে সেখান থেকে Mond ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে অন্যান্য ফ্লাইটে আগত বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট আটক করা হয়েছে।
আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা হলেও প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (TTI) বিবেচনায় এর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।
এদিকে একই ফ্লাইটে আগত যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পাসপোর্ট যাচাই করে দেখা যায়, তিনি চলতি বছরের ১০ জুন শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আমদানি করেছিলেন। ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
অভিযানে আরও ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া কলকাতা থেকে আগত বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১ লিটার বিদেশি মদ বা হুইস্কি উদ্ধার করা হয়। শুল্ক-করসহ এসব মদের মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে আটক পণ্যগুলোর শুল্ক-করসহ মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা। আটক পণ্যের বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, চোরাচালান, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।