নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:১৮:৫৯
জুলাই সনদ সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর আমরা শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের (বিএনপি) বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। সংস্কার পরিষদে আমরা শপথ নেইনি, কারণ এটা সংবিধানে নেই। সংবিধানে যুক্ত করার পরে পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ স্বীকার করেছেন তারই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এটি স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বেরও প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত, দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা এবং সংসদকে বাংলাদেশের সকল সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু করা। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও অর্থবহ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
চিফ হুইপ জানান, আমাদের অঙ্গীকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। একটি কার্যকর এবং সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তিনি সবাইকে নিয়ে একটি শক্তিশালী দেশ, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ তৈরি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নুরল ইসলাম আরও বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। সেই সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণ করা হবে। স্পিকার আসার পর সভাপতিমণ্ডলী নির্ধারণ হবে। তারপর সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনা ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স প্রথম দিনেই সংসদে তোলা হবে এবং যেগুলো পাশ করার, সেগুলো সেদিনই পাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।