নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:০৫:৩২
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গৃহীত, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন
স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানান। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করবেন। স্পিকারের শপথের সময়ই সেই শপথ নিয়েছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। যা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই সংবিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র নিয়ে জাতীয় সংসদে যান বঙ্গভবনে কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি কয়েকটি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তার পক্ষে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মহান দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।
এ সময় স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন ফ্যাসিবাদী আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল থাকবেন। বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্থতাও কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তখন বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত টিকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।