নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১:১৮:২৮
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর-লুটে সরকারের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: এবি পার্টি
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় শতাধিক মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করবে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলবে, মানুষকে কুপিয়ে আহত করবে এবং অফিসে ঢুকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করবে,এটি নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা নয়,এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
তারা বলেন, চাঁদার দাবিতে যদি সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডব চালানোর সাহস পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে? রাজধানীতেই যদি অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা ছিল,ভয়, দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অবসান। অথচ সেই আন্দোলনের পরও যদি নতুন পরিচয়ে একই ধরনের দখলদারি ও সন্ত্রাস ফিরে আসে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তারা বলেন, ভবন কর্তৃপক্ষ ও সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে সরকার দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগকে আমলে দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করুন। রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীদের পরিত্রাণের সুযোগ নেই।
এবি পার্টি স্পষ্টভাবে বলতে চায়,অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার অপরাধের বিচার হতে হবে। কেউ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হোক কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না।
দলটির নেতারা অবিলম্বে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহনের উৎস শনাক্ত, লুট হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি হামলার নেপথ্যের চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ কেন আগে থেকে কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি, হামলাকারীরা কীভাবে এত বড় একটি দল নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করল এবং কারা তাদের পেছনে ছিল,এসব প্রশ্নের জবাব জনগণকে দিতে হবে। ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গুলিবিনিময়ের ঘটনাও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
এবি পার্টির নেতারা সতর্ক করে বলেন, চাঁদাবাজের হাতে রাষ্ট্রের আইন তুলে দিলে রাষ্ট্র আর জনগণের থাকে না, তা ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। তাই এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধু একটি হামলার বিচার নয়,এটি নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরীক্ষাও।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে নিউগিনি প্রপার্টিজের হামলার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করুন। জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দিন যে,বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ত্রের জোরে চাঁদা আদায়, দখল, ভাঙচুর ও লুটপাট করার অধিকার দেওয়া হবে না।