বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয় দাবি করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।২৪ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার রুকন সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা কোনো অন্যায় করি না। আমাদের ভুল, অন্যায়, দোষ ও অপরাধও হয়। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, যারা দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তারা আমাদের কোনো অন্যায় বা অপরাধ দেখলে তা আমাদের ধরে দিন। কথা দিচ্ছি- আমরা সংশোধন করব, ইনশাআল্লাহ।নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আপনার গায়ে যদি সাদা কাপড় থাকে, তাহলে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। ভেরি কেয়ারফুল! নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই।তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করব সংশোধন করার। সহনীয় মাত্রার কোনো লঙ্ঘন হলে সংশোধনের মাধ্যমে তাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু সেই মাত্রা যদি গুরুতর হয়, তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হবে। আর সেই বার্তা আমিসহ আমাদের সবার জন্য– সচেতন ও সতর্ক থাকার। সাবধান, সবাই সাবধান।
১২ ঘন্টা আগে
সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বাংলাদেশ থেকে বিদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মিরপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে যারা অপমান করেছে, ইতিহাসে তাদের কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। আপনাদের দেরি হয়েছে, সমস্যা নেই, বাস্তবতা মেনে নিন। জনগণকে সম্মান দেখালে, জনগণও আপনাদের সম্মান ও গ্রহণ করবে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের এককভাবে দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলেও নির্বাচনের পর সরকার বলছে, গণভোট অবৈধ। তাহলে গণভোট যদি হারাম হয়, সংসদ নির্বাচন কীভাবে হালাল হয়—প্রশ্ন জামায়াত আমিরের।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যাদের হাত ধরে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলো, সেই যোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। জুলাইয়ের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
১ দিন আগে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। চিঠির অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামের দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
১ দিন আগে
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মে’র নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছে, দোয়া করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে; এটাই হলো বাস্তবতা এবং গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য। বুধবার (২২ জুলাই) এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সকালে দলের বিজয়নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ, মো. আলিফ প্রমুখ।মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১-এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সাধারণত আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতির সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৭, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে আলেম সমাজের পাশে সমাজের বৃহত্তর অংশ দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি কিছু রাজনৈতিক দলও শেষ পর্যন্ত তাদের পাশে থাকেনি। এরপর সরকারবিরোধী সব কণ্ঠ দমন করে, যা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকে আরও সুগম করে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামারা জাতির শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয় এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছে।ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।
২ দিন আগে