জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।আজ সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে টোকিওর কামিনাকাযাতোস্থ তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জামায়াত আমির।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ’৪৭, ’৭১, ’২৪—প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলাদেশের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছেন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় একটাই—একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার অবদান সমানভাবে স্মরণ রাখতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবের সময়ে হাসিনাসহ সব অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।প্রবাসীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। প্রথমত, জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে কিংবা প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৫ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনাদের আস্থা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংসদে ও রাজপথে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।’ একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ‘জোট থেকে যে ৭৭ জন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমরা সেই ৭৭ জন জনগণের দারোয়ান- আমরা দেশে আর দুর্নীতি হতে দেব না।’জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাপানের আইন-কানুন মেনে চলা এবং জাপানি জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দূর প্রবাসে এসে নিজেদের শিকড় ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সন্তানদের মাঝেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে হবে।’অনুষ্ঠানে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রবাসের মাটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই সংবর্ধনাকে অর্থবহ করে তুলেছে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিরোধীদল হিসেবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।এতে বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘জুলাইয়ের গণআন্দোলন বাংলাদেশকে একটি নতুন ধারায় নিয়ে গেছে। এই অগ্রযাত্রা সফল করতে দেশে-বিদেশে সব বাংলাদেশির সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ তিনি প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মাওলানা ছাবের আহমদ বলেন, জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানি সমাজে বাংলাদেশের সঠিক ও ইতিবাচক ভাবমর্যাদা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর প্রবাসী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলা, আরবি ও জাপানি ভাষায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এ টি এম মিছবাহুল কবির চৌধুরী, আব্দুল মালেকসহ অনেকে।
৩ ঘন্টা আগে
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম জাকাত নিয়ে বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ।রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটা আল্লাহর পবিত্র বিধান। এই পবিত্র বিধানকে কেন্দ্র করে কটূক্তি বা বিদ্রূপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির মহিলা নেত্রী নিলুফার মনির জাকাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদতকে অবমাননা করার অধিকার দেয় না। এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও অশান্তির জন্ম দেয়।’সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জাকাতের মতো মহান ইবাদত সম্পর্কে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্যের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে তা প্রত্যাহার করা এবং মুসলমানদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সংযম, শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখুন, যাতে সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি অটুট থাকে। আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা যেন মাঠে নামতে বাধ্য না হয়।’সম্প্রতি একটি টকশোতে জাকাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন নিলুফার মনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম।’ তার এই মন্তব্য নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়।’রোববার (৩ মে) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব বলেন। তিনি বলেন, ‘গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা কোন বিষয়ে নারাজি, দ্বিরাজি- সেটা মুখ্য বিষয় হতে পারে না। বাস্তবতা হলো, ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে ক্ষমতার দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনো বের হয়ে আসতে পারেন নাই।’তিনি বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা বিএনপির সাথে এই ডিবেটটাও করতে চাই আবারও যে, উচ্চকক্ষ যদি ভোটের পিয়ার অনুযায়ী হয়, সেটাতেই কি আপনাদের আপত্তি? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি নতুন একটা ফর্মুলায় হয়, আপনাদের আপত্তি কি সেই জায়গায়? সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একটা নিরপেক্ষ বডির মধ্য দিয়ে নিয়োগ হবে- আপনাদের আপত্তি কি সেই জায়গায়? সেটা খোলাসা হওয়া প্রয়োজন। সংস্কারের বিষয়গুলোকে কি তাহলে বিএনপি দেশ এবং জাতির জন্য নেতিবাচক মনে করে?’বিএনপিকে আখতার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময়টাতে আপনারা গণভোটে “হ্যাঁ” এর কথা বলেছিলেন, কারণ আপনারা জানতেন যে তখন গণভোটে যদি আপনারা “না”-এর পক্ষে অবস্থান নিতেন, জনগণ আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত। সে জনগণ তো ভোটের পরে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করেই তারপরেই অনেক কিছু হবে, বিষয়টা তো এমনও না। বাংলাদেশের জনগণ এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা খেয়াল রাখছে।’
১ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) গণঅধিকার ও যুব অধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগ দিলেন। ২ মে শনিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এসময় তাদের ফুল দিয়ে বরিশাল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা বরণ করে নেন। এ সময় বিভিন্ন দল থেকে আগ্রহী নেতাকর্মীদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এদিন সদস্য ফরম পূরণ করে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে জানান মুসা।এদিকে এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাওলাদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, কেদারপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খানসহ উজিরপুর, গৌরনদী, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন।এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি বরিশাল জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ খান ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাফিসা মুসতারি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলী ও ইমরান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রমুখ।
১ দিন আগে