নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:০৪:২৫
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারে জনমনে উচ্ছ্বাস: ড. খন্দকার মারুফ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারে জনমনে দারুণ উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা বিরাজ করছে।প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসছে গোটা দেশ। আর এই স্বস্তির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নেতারা বিদেশে বসে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
জনগণ এই গণধিকৃত ও নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সহিংসতার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেবে, ইনশাআল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সদরে 'মারুফ ভিলা' প্রাঙ্গণ এবং মেঘনা উপজেলা সদরে আগামী ১ অক্টোবর ফেনী যাবার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জানাতে স্থানীয় বিএনপির পৃথক দু'টি প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, জিয়া পরিবারের ৩য় সদস্য তারেক রহমানের ভাষণ জাতিসংঘে নজিরবিহীন ইতিহাস হয়ে থাকবে। ভাষণে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত, সন্মানিত হয়েছি। এতে আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এখন দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সংগঠনের এটা সহ্য হচ্ছে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও শেখ হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের হুঁশ হয়নি। বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের নানা ছক তৈরী করছে। নিজের জন্মভূমিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এদের একটু বুক কাঁপে না।
কারণ দেশ ও জনগণের জন্য ফ্যাসিস্ট লীগের কোনো দয়ামায়া নেই। তাদের এইসব কুকর্ম দেশদ্রোহীতার সামিল।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার গায়ের জোরে বিনাভোটে ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। বাকস্বাধীনতা,গণতন্ত্র ও আইনের শাসন অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন ।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, এতো অপরাধ করার পরও হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের কোনো অনুশোচনা নেই। ভুল স্বীকার করে একবার ক্ষমাও চায়নি। বরং বড় বড় আওয়াজ দিচ্ছে। দেশে একটি প্রবাদ আছে, 'চোরের মায়ের বড় গলা'। আ'লীগকে অবশ্যই এখন অনুধাবন করতে হবে, জনগণ এখন অনেক সচেতন ও বুদ্ধিমান। সহিংসতা ও চাপাবাজির দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আ'লীগকে ছাড় দেওয়া যাবে না। তারা যেখানে সহিংসতা কিংবা জনস্বার্থ নষ্ট করতে চাইবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গত ১৬ বছর জুলুম নিপীড়ন চালিয়েছে। প্রমাণ করেছে, আ'লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। স্বাধীনতার পরে এই দলটি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তারা নিজ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য একটি দেশের দাসত্ব ও স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত ছিলো।
ড.খন্দকার মারুফ বক্তব্যে জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ'লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবেলা করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ড.খন্দকার মারুফ হোসেন সকালে মেঘনা উপজেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
দাউদকান্দির সভায় পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার ও মেঘনায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো.রমিজউদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন।
দুইটি সভায় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, দাউদকান্দি বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূইয়া, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, পিটার চৌধুরী,ভিপি জাহাঙ্গীর আলম,এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার,কাউসার আলম সরকার,এম.এম মিজানুর রহমান,জয়নাল আবেদিন, আবু ইউসুব ময়ন ডা.আবদুল কাইউম,দিলারা শিরীন,কামাল হোসেন, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া ও রোমান খন্দকার প্রমুখ।