রয়টার্সকে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৯:৪০:০২
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার করবে না বিএনপি: তারেক রহমান
তারেক রহমান নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
প্রাই দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে বিএনপি ও জামায়াত। জামায়াত বলেছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করার জন্য একটি ঐক্য সরকারের জন্য ওই অংশীদারত্ব পুনরায় চালু করার বিষয়ে রাজি আছে তারা।
তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি জানি না, তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তাদেরকে ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।’
নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’
সব জনমত জরিপেই বিএনপি জয়ী হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। তবে তাদেরকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও জরিপে এসেছে। তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন–জিদের দল (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হয়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’