নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ রাত ১০:৫১:০০
মালয়েশিয়ায় ৭ বছর কারাভোগের পর অপহরণ মামলায় খালাস পেলেন দুই বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ায় অপহরণ মামলায় সাত বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে খালাস পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক| দেশটির আপিল আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অপহরণের অভিযোগে দেওয়া দোষী সাব্যস্তের রায় বাতিল করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন|
মুক্তি পাওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন ৪২ বছর বয়সী ফারুক শাহাবুদ্দিন এবং ৪০ বছর বয়সী হোসনেয়ারা বেগম রবেসালি| সোমবার তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে তাদের আপিল মঞ্জুর করেন| বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি আজমি আরিফিন| অপর দুই বিচারপতি ছিলেন রাদজি আবদুল হামিদ ও আহমদ শাহরির সালেহ|
রায়ের ফলে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৬১ সালের অপহরণ আইনের ৩(১) ধারায় দেওয়া দোষী সাব্যস্তের রায় বাতিল করা হয়| একই সঙ্গে আলোর সেতার হাইকোর্টের দেওয়া ৩০ বছরের কারাদণ্ড এবং ফারুকের ওপর আরোপিত এক বেত্রাঘাতের সাজাও বাতিল করা হয়|
এর আগে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আলোর সেতার হাইকোর্ট ফারুক ও হোসনেয়ারাকে দোষী সাব্যস্ত করেন| অভিযোগ ছিল, তারা ২০১৮ সালের ২২ ডিসে¤^র রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে কেদাহর কুলিম বাসস্টেশন এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম সলিহউদ্দিনকে অপহরণ করেন|
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, তারা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে আটকে রেখেছিলেন|
তবে আপিল শুনানিতে ফারুকের আইনজীবী আরএসএন রায়ের যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপক্ষ অপহরণ মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভুক্তভোগীকে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিপ্রায় প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে|
আদালত পঞ্চম সাক্ষী নূর আলী স্যাফিখ মারজুকির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন| তিনি জানান, যেই বাড়িতে সাইফুলকে পাঁচ দিন আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল, সেই সময় তিনি নিজেও সেখানে অবস্থান করছিলেন| তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল অবাধে চলাফেরা করতেন; তাকে কোথাও আটকে রাখা হয়নি কিংবা তার চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি|
আপিল আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ঘটনাটি সাইফুলের বাবার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না|
ফারুকের পক্ষে আইনজীবী আরএসএন রায়ের ও আর. থান্ডাইয়ুথাবানি এবং হোসনেয়ারার পক্ষে আহমদ তৌফিক বাহারোম আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন| রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর সিতি রাফিদাহ জয়নুদ্দিন|