জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন ‘স্কুল অব লিডারশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সমাজগঠনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।সাম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ড. গোলাম রাব্বানী প্রথাগত রাজনীতির বদলে পরিবেশ ও শিক্ষার মতো বিষয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সমাজকর্মী তৈরি এবং গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোকে সামাজিক যোগাযোগের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভিলেজ কোর্টকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ড. গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। একটি সুনির্দিষ্ট কাজের দর্শন নিয়ে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরে এই বহুমুখী নেতৃত্ব ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করতে চান।
২ দিন আগে
বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রথমে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডকে (আরএল-২০৬৮) ২৮টি চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছিলো। এবার আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিডেটকে (আরএল-১৭০৩) ২৬ জন কর্মীর জন্য চাহিদাপত্র অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার হাইকমিশন। জানা গেছে, প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের (আরএল-২০৬৮) জন্য ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছিলো বাংলাদেশ হাইকমিশন। এবার দ্বিতীয় ধাপে হাইকমিশন থেকে সত্যায়ন করা হয়েছে ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র। মালয়েশিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শরীকত পারনিগান মনজা’র চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিডেটকে (আরএল-১৭০৩) এই অনুমোদন দেওয়া হলো।আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিটেডের (আরএল-১৭০৩) ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশিয়ার হাইকমিশন থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর জোর দেন। তিনি এ লক্ষে মালয়েশিয়া সফরও করেন। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই শ্রমবাজারে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আগে সেখানকার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমিক দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন তারা। গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
৩ দিন আগে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।তাবারজাল-আলজাওফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দিতে আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর, শুক্রবার ও শনিবার একটি কনস্যুলার টিম সেখানে অবস্থান করবে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাবারজাল আল ফাহদা, দাইরেজা রোড, দাইরেজা, তাবারজাল-আলজাওফ এলাকায় এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।কনস্যুলার টিমের মাধ্যমে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি, শ্রম কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা হুরুবপ্রাপ্তদের আবেদন গ্রহণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।এছাড়া সোনালী ব্যাংকের সেবা, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, কনস্যুলার ডকুমেন্ট সত্যায়ন, আমমোক্তারনামা প্রদান এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে।দূতাবাস জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি ই-পাসপোর্টের ছবির জন্য গাঢ় রঙের রঙিন পোশাক পরিধান করে আসার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা যাবে না।প্রবাসীদের সুবিধার্থে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চলছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশজুড়ে ১০ হাজার ৩৭৪টি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৩৭ হাজার ৩১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৩ জনকে যাচাই করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে কতজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।শুধু অবৈধ অভিবাসীদের আটকের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখেনি মালয়েশিয়া। তাদের নিয়োগ, আশ্রয় ও অবৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে ১ হাজার ৮০৯ জন নিয়োগকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জনই মালয়েশিয়ার নাগরিক।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু অবৈধ অভিবাসীদের টার্গেট করা হচ্ছে না। যারা তাদের নিয়োগ দেয়, আশ্রয় দেয় কিংবা অবৈধভাবে দেশে অবস্থানের সুযোগ করে দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয়দাতা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে ৩৪৬ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫৯ জনে। ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় ২ হাজার ২০২ জনকে। আর চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ৮০৯ জন।সাইফুদ্দিন বলেন, অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুধু বিদেশিদের আটক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। যারা তাদের নিয়োগ, আশ্রয় ও অবৈধ অবস্থানকে উৎসাহিত করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।তার ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর উপস্থিতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতীতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন চক্র এবং দায়িত্বহীন নিয়োগকর্তারা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ সারা দেশে প্রতিদিন আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালিয়ে যাবে। এসব অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা কিংবা সাময়িক জনমতের চাপের ওপর নির্ভর করবে না।সাইফুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি মৌসুমি অভিযান নয়।’ কোনো ঘটনা জনসমক্ষে আলোচনায় এলেই শুধু অভিযান পরিচালনা করা হবে—এমন নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ অভিবাসনকে ঘিরে অপব্যবহারের পুরো চক্র ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বিদেশি নাগরিকদের বৈধ পথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ এবং দেশটির অভিবাসন আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। অবৈধভাবে প্রবেশ, জাল কাগজপত্র ব্যবহার কিংবা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।একই সঙ্গে আর্থিক লাভের আশায় অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ কিংবা আশ্রয় না দিতে নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১ সপ্তাহ আগে