ইতালির ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অন্যতম আস্থার ঠিকানা। আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সকাল থেকেই দেখা যায় রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি। জরুরি চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চিকিৎসাসেবায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রবাসী বলছেন, প্রবাস জীবনে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ রোগীদের মাঝে বাড়াচ্ছে আস্থা।শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাও নজর কেড়েছে অনেকের। প্রতিদিন পরিবার নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ।বিশ্লেষকদের মতে, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সেই তালিকায় নোলার ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হাসপাতাল অন্যতম।দেশ থেকে দূরে প্রবাস জীবনে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রবাসীদের মনে এনে দিচ্ছে বাড়তি স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
২ দিন আগে
কয়েকদিন পর বিয়ের সানাই বাজানোর কথা ছিল যে বাড়িতে, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্নার শব্দ। নেই আনন্দের কোলাহল, নেই বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অপেক্ষা, চার ভাইয়ের লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষা।১৩ মে বুধবার ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ।ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা ও নিহতদের মামাতো ভাই বাবুর মাধ্যমে প্রথমে দেশে পৌঁছে এ হৃদয়বিদারক সংবাদ। পরে লালানগর ইউনিয়নের মো.ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সহোদর রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ওমানে অবস্থান করছিলেন চারভাই। তাদের এক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ঘরে চলছিল আনন্দের প্রস্তুতি। খুব শিগগিরই দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।বর্তমানে চার ভাইয়ের লাশ রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে এবং মাস্কাটে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৩ দিন আগে
কৃষি ও পর্যটন খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আরও ৮ হাজার ৮৬৫টি সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দিয়েছে ইতালি সরকার। এর ফলে ইতালিতে কাজের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।২০২৬ সালের ‘ডিক্রেটো ফ্লাসি’ কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত এই কোটা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ মে প্রকাশ করা হয়।মূলত গ্রীষ্মকালীন কৃষিকাজ এবং পর্যটন মৌসুমে বাড়তি শ্রমিক চাহিদা পূরণে এই অতিরিক্ত পারমিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোটার মধ্যে কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৯টি পারমিট। এছাড়া হোটেল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৭৬টি পারমিট।চলতি বছরের শুরুতে ‘ক্লিক ডে’-তে আবেদন করেও কোটা সংকটের কারণে যারা সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের অনেক আবেদন পুনরায় বিবেচনার আওতায় আনা হতে পারে।এদিকে নতুন আবেদনকারীদেরও সুযোগ থাকছে। তবে আবেদন করতে হবে ইতালির বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তাকে সরকারের নির্ধারিত ইমিগ্রেশন পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীর আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে শ্রমিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে ইতালির। বিশেষ করে কৃষি, হোটেল ও পর্যটন খাতে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের চাহিদা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে অতিরিক্ত এই কোটা দীর্ঘ সময় খোলা নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া পারমিট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পূরণ হয়ে যায়।
৪ দিন আগে
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বইমেলার বিভিন্ন আয়োজন, আমন্ত্রিত অতিথি তালিকা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।বইমেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম জানান, এবারের মেলায় ১০ হাজারেরও বেশি নতুন বই প্রদর্শিত হবে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য লেখক, কবি, গবেষক, প্রকাশক ও সাহিত্যপ্রেমীর অংশগ্রহণে মেলাটি প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এবারের বইমেলায় বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২৫টি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করছে। উল্লেখযোগ্য প্রকাশনীগুলোর মধ্যে রয়েছে: অঙ্কুর প্রকাশনী, অন্বয় প্রকাশ, অভ্র প্রকাশন, অনন্যা, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, কথাপ্রকাশ, কাকলী প্রকাশনী, কাশবন প্রকাশন, কবি প্রকাশনী, গ্রন্থকুটির, জলধি, নালন্দা, প্রথমা প্রকাশন, বেঙ্গল বুকস, বাতিঘর, বিদ্যাপ্ৰকাশ, বিপিএল, মাওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন, সম্পর্ক পাবলিশার্স, সাহিত্যম, ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন, পিজ্জা এন্ড পোয়েট্রি এবং মুক্তধারা নিউ ইয়র্ক।বইমেলার উদ্বোধন করবেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রওনক জাহান এবং জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর, কবি বব হোলম্যান, পশ্চিমবঙ্গের কবি সুবোধ সরকার, লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন, সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বিজ্ঞান লেখক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী দীপেন ভট্টাচার্য এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।মেলায় অংশ নেবেন দেশ ও প্রবাসের বহু বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—ড. আবদুন নূর, মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী, গৌতম দত্ত, অধ্যাপক বিরূপাক্ষ পাল, নজরুল মিন্টো, অধ্যাপক সৌরভ সিকদার, রুমা মোদক, জাফর আহমদ রাশেদ, অধ্যাপক শামীম রেজা, রুদ্র শংকর, ফারুক হোসেন, আশিক মুস্তফা ও পারমিতা হিম।এবারের বইমেলার একটি বিশেষ তাৎপর্য হলো—বাংলা সাহিত্য ও সমাজচিন্তার দুই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দীন আবুল কালাম এবং মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষে তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। তাঁদের সাহিত্যকর্ম, মানবিক চেতনা এবং সমাজভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই আমাদের এই বিশেষ প্রয়াস।বইমেলার সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করবেন প্রখ্যাত শিল্পী অদিতি মহসিন। আয়োজকরা আরও জানান, বইপ্রেমীদের সুবিধার্থে বইয়ের নাম, লেখক পরিচিতি ও মূল্যসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন প্রকাশনা, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, কবিতা, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই এবং প্রবাসী বাংলা সাহিত্যকে এবারের মেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বইমেলার উদ্বোধক ইমদাদুল হক মিলন এবং সম্মানিত অতিথি ফরিদুর রেজা সাগর ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। তাঁদের অংশগ্রহণে বইমেলার অনুষ্ঠানমালা আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আয়োজকরা বিশ্বাস করেন।আয়োজকরা বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিবছরের মতো এবারও এই আয়োজন করা হয়েছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
৫ দিন আগে