আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে:
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:৪৪:২০
শ্রমবাজার ইস্যুতে আলোচনায় মালয়েশিয়া আসছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তৃতীয়বারের মতো মালয়েশিয়া সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত ১১টায় মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ঢাকায় থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট চারজন থাকবেন।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন। যদিও সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
পুত্রজায়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর। তিনি নির্বাচিত কয়েকটি খাতে, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ শিল্পে বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন ও জটিলতা আগামী এক মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
গত শুক্রবার রাতে পেনাংয়ের বাটারওর্থে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান মুসলিম ট্রান্সফরমেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক (আইএমটিএফ) ২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি খাতে শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু শূন্যপদ পূরণের জন্য সরকার বিদেশি, বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য পুরোপুরি দরজা খুলে দিতে চায় না। তবে যেসব খাতে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক প্রয়োজন, সেসব খাতের সংকট সমাধানে সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও মাদানি সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেস্তোরাঁ ও নির্মাণ খাতসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা সরকার পুনর্বিবেচনা করছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দেশের মোট শ্রমশক্তির ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আর ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর এই সফর এবং আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শ্রমবাজারে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে এমওইউ স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে।