দেশে ও বিদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।তিনি জানান, পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টির রায় প্রদান করা হয়েছে।বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, দেশে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।পাচার হওয়া অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশ হল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন।এর মধ্যে তিনটি দেশ—মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এর সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ইশতেহার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।ইতোমধ্যে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। লিখিত জবাবে ইশতেহার বাস্তবায়নের খাতভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী-প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এটি পাইলটিং করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৯৫ জন ইমাম, ২ হাজার ৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২ হাজার ৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত এবং বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষ রয়েছেন।খুলনা জেলায় পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ২৫ লাখ ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন করেছে। এছাড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাবিটা ও টিআরের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। পাশাপাশি, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে এবং ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।হাইটেক বা সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি’এর ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান সহজ করা হয়েছে।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের (১ এপ্রিল) কার্যসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংসদে একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রশ্নোত্তর পর্ব আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বুধবার সংসদের মুলতবি অধিবেশনে বক্তব্যকালে এক সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন—বিশেষ করে বুধবার—প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ রাখা হলে সংসদীয় কার্যক্রম আরো সুসংগঠিত হবে।সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে প্রশ্নটি রেফার করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলের অনেক সদস্যই। তারা মনে করছেন, এর ফলে সংসদের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়বে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
৫ ঘন্টা আগে
রাজধানীতে স্কুল চলাকালীন সময়ে যানজট কীভাবে নিরসন করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাক্ষাৎ করেন। এ সময় এমন নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীতে স্কুলের সময়ে যেভাবে যানজট হয় তা কীভাবে নিরসন করা যায় এবং এ ব্যাপারে বিকল্প ব্যবস্থা কী কী হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা তৈরি করে উপস্থাপন করতে বলেছেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে, রাজধানীর একটি স্কুলে দেড়শ শিক্ষার্থীর জন্য একশ গাড়ি স্কুলের সামনে ভিড় করে। এতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে বেগ পেতে হয়। এই সমস্যাগুলো অ্যাড্রেস করে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প খুঁজতে মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পর জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব। পরে নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১ দিন আগে