ইফতারে ঠান্ডা পানীয় খুবই জরুরি। বাইরে থেকে অনেকে কেনা ইন্সট্যান্ট শরবত গুলিয়ে খান। এতে হয়তো সাময়িক প্রশান্তি আর স্বাদ পাওয়া যায়,তবে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে স্মুদি তৈরি করা যেতে পারে। তাতে প্রাণও জুড়াবে, শরীরও ভালো থাকবে। ইফতারের জন্য স্বাস্থ্যকর খেজুরের স্মুদি তৈরি করা যায় যেভাবে- খেজুর- ১০-১২টিদুধ- ২ কাপপাকা কলা- ২টিদই- ২ টেবিল চামচদারুচিনি গুঁড়া- ২ চা চামচমধু- ২ চা চামচবরফ- পরিমাণমতো।যেভাবে তৈরি করবেনপ্রথমে পরিষ্কার ও গরম পানিতে খেজুরগুলো ভিজিয়ে রেখে নরম করে নিন। এবার পানি থেকে তুলে তার সঙ্গে কলা টুকরা করে মেশান। এরপর ব্লেন্ডারে সবগুলো উপকরণ নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ভালোভাবে ব্লেন্ড করবেন যেন দানাদানা না থাকে। ব্লেন্ড হয়ে গেলে কাঁচের গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করবেন। উপরে বরফের টুকরা ছড়িয়ে দিন। এটি ইফতারের আগে আগে তৈরি করলে খেতে বেশি ভালোলাগবে। তৈরি করে বেশিক্ষণ রেখে দিলে স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে।
১৭ ঘন্টা আগে
ভালোবাসা সপ্তাহের চতুর্থ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে টেডি ডে। প্রেমের সম্পর্কে মায়া, কোমলতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে এদিন প্রিয় মানুষকে টেডি বিয়ার উপহার দেওয়ার রীতি প্রচলিত।কার্ড, ফুল বা চকোলেটের পাশাপাশি টেডি এখন ভালোবাসা জানানোর জনপ্রিয় মাধ্যম। মান-অভিমান ভাঙানো থেকে শুরু করে প্রিয়জনকে বিশেষ অনুভূতি দেওয়ায় টেডি বিয়ারের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এটি শুধু খেলনা নয়, বরং প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতিতে তার উপস্থিতির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।টেডি বিয়ারের পেছনে রয়েছে এক মানবিক ইতিহাস। ১৯০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট শিকারে গিয়ে একটি ভাল্লুক ছানাকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘টেডি বিয়ার’-এর জন্ম, যা ১৯০৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। টেডি ডেতে উপহারের রঙও বহন করে ভিন্ন অর্থ। লাল টেডি গভীর ভালোবাসা, গোলাপি ভালোবাসার প্রস্তাবে সম্মতি, কমলা নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা, নীল আন্তরিক ভালোবাসা এবং সবুজ দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্কের প্রতীক।
১ সপ্তাহ আগে
আমাদের প্রতিদিনের তাড়াহুড়োয় কনসিলারের যে ছোট টিউবটি আমরা খুঁজে ফিরি, তা কিন্তু সবসময় এমন ছিল না। একসময় এর জীবন ছিল ঝলমলে ও জমকালো। তখন এটি শুধুমাত্র হলিউডের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।১৯১০ থেকে ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকান চলচ্চিত্র শিল্প তখনো গড়ে উঠছিল, চলছিল নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সিনেমার সেটগুলো জাঁকজমক আর উজ্জ্বল আলোতে সাজানো থাকতো। সেই আলোতে সবকিছু ছিল স্পষ্ট, যেমন চোখের নিচের কালো দাগ, ব্রণের ক্ষতচিহ্ন, এমনকি মুখের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ছায়াটুকুও। বাস্তব জীবনে যেসব বিষয় মানুষ তেমন খেয়াল করত না, ক্যামেরার সামনে সেগুলো হয়ে উঠত চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট।মুখে ভারী মেকআপ ব্যবহার করেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। তাতে বরং পর্দায় অভিনেতাদের চেহারা হয়ে উঠত প্রাণহীন ও অস্বাভাবিক। তখন মেকআপ শিল্পীদের প্রয়োজন ছিল আরও কার্যকরী কোনো সমাধানের। এমন কিছু, যা কেবল প্রয়োজনীয় অংশেই ব্যবহার করা যাবে। এই ধরনের প্রয়োজনকে মাথায় রেখেই তৈরি হয় কনসিলার। পুরো মুখ ঢেকে দেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট অংশে ব্যবহার করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছিল। শুরুতে কনসিলার ছিল শুধুই প্রফেশনালদের ব্যবহারের জন্য। শুটিংয়ের আগে মেকআপ আর্টিস্টরা যত্ন নিয়ে এবং সাবধানে এটি ব্যবহার করতেন । সাধারণ মানুষ তখন এটি সবসময় ব্যবহার করত না। তবে সৌন্দর্যের ট্রেন্ড কখনোই এক জায়গায় আটকে থাকে না। ধীরে ধীরে মানুষের সৌন্দর্যের ধারণা বদলাতে লাগল। সৌন্দর্য মানে এখন আর মুখ লুকিয়ে রাখা নয়, বরং নিজের মতোই দেখা, এবং নিজেকে আরও সতেজ ও কোমলভাবে প্রকাশ করা। এই ভাবনা পরে তৈরি করল “নো-মেকআপ মেকআপ লুক”, যা আজকাল অনেকেরই পছন্দ। আর এই পরিবর্তনের সাথেই কনসিলার ধীরে ধীরে দৈনন্দিন রূপচর্চার একটি অংশ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে সৌন্দর্যের প্রচলন সবসময়ই সাংস্কৃতিক রীতিতে চলে আসছে- প্রাকৃতিক ত্বকের যত্ন, চোখে কাজল, কপালে টিপ। কিন্তু ফ্যাশনেবল ও স্টাইলিশ মেকআপ আধুনিক জীবনে এসেছে তুলনামূলকভাবে দেরিতে। ১৯৬০-এর দশক থেকে এটি মূলত বিউটি স্যালন এবং আমদানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে পরিচিত হতে শুরু করে। স্বাধীনতার পরও মেকআপ মূলত বিশেষ দিনের জন্য ব্যবহৃত হতো- বিয়ে, উৎসব বা কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনে; দৈনন্দিন জীবনে মেকআপের ব্যবহার খুবই কম ছিল। এরপর ডিজিটালাইজেশন সবকিছু বদলে দিল। ইনস্টাগ্রামের টিউটোরিয়াল, ইউটিউব ভিডিও, ফেসবুক পেজ এবং পরবর্তীতে টিকটক- মেকআপের জ্ঞান সবার হাতের নাগালে নিয়ে এলো। নারীরা এখন ঘরে বসেই নিজের মেকআপ করা শিখে নিয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন, প্রতিদিন ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো শুধু চোখের নিচে, নাকের চারপাশে বা ছোট কোনো দাগের ওপর সামান্য কনসিলারই যথেষ্ট।কনসিলার আর কেবল পেশাদারদের গোপন কোনো বিষয় হয়ে থাকল না। এটি হয়ে উঠল নিত্যদিনের অতি প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ। ব্যস্ত সকাল, অনলাইন মিটিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কিংবা ঝটপট কোথাও বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একদম উপযুক্ত। সহজে এবং দ্রুত ব্যবহার করা যায় বলে আধুনিক বাংলাদেশি জীবনযাত্রার সাথে কনসিলার চমৎকারভাবে মিশে গেছে।কিন্তু চাহিদা বাড়লেও অনেকদিন পর্যন্ত কিন্তু আমাদের দেশে কনসিলারসহ অধিকাংশ মেকআপ সামগ্রী ছিল আমদানিনির্ভর। এসব পণ্য ছিল মূলত বিদেশি ব্র্যান্ডের, যা ব্যয়বহুল এবং সহজলভ্য ছিল না। পাশাপাশি, অনেক কনসিলার বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের রঙ কিংবা দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই ছিল না। ফলে কনসিলার তখন দামী ও নির্দিষ্ট কিছু মানুষের—বিশেষত পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট, কনে ও সীমিত সংখ্যক গ্রাহকের ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।ঠিক তখনই একটি দারুণ ঘটনা ঘটল। বাংলাদেশ নিজস্ব মেকআপ পণ্য তৈরি করতে শুরু করল। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো মানুষের আসল চাহিদার দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করল- যেমন আমাদের ত্বকের ধরন, স্থানীয় আবহাওয়া এবং সাশ্রয়ী দাম।বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বিউটি জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম হলো ‘নিরভানা কালার’-এর “নিরভানা ফেস পারফেক্ট ক্রীজলেস কনসিলার”। এটি প্রথম বাংলাদেশী কনসিলার, যা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশি ত্বকের ধরন ও দেশের আবহাওয়া বিবেচনায় রেখে। কনসিলারটির ফর্মুলেশন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন শেলফে সংরক্ষণের সময় যেকোনো আবহাওয়াতেই এর মান ও কার্যকারিতা অটুট থাকে। কনসিলারটি তিনটি শেডে পাওয়া যায় । আমাদের দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া যেখানে মেকআপ সহজেই গলে যেতে পারে বা ত্বকে ভারী মনে হতে পারে, সেখানে এর ফর্মুলা এমনভাবে তৈরি যেন আমাদের ত্বকে এটি আরামদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। হলিউডের ফিল্ম সেট থেকে ঘরের ড্রেসিং টেবিল পর্যন্ত কনসিলারের পথচলা সত্যিই অনেক দীর্ঘ। যা শুরু হয়েছিল পর্দার আড়ালের একটি সাধারণ সমাধান হিসেবে, আজ তা আমাদের দৈনন্দিন রূপচর্চার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। এটি আমাদের স্বাভাবিক রূপকে ফুটিয়ে তোলে, আর একটু বেশি সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।
২ সপ্তাহ আগে
আমাদের সমাজে এখনো মানসিক অবসাদকে দেখা হয় হালকাভাবে। এটিকে ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে অবহেলা করা হয়। তবে মানসিক অবসাদ কোনো সাধারণ মন খারাপ নয়, এটি একটি বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুখ। যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনই মনও অসুস্থ হতে পারে—আর সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই প্রয়োজন।শুরুতেই লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠতে পারে। মানসিক অবসাদের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন, দীর্ঘদিনের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, ব্যর্থতা, একাকিত্ব বা হরমোনজনিত পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন আচরণেই এর ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।সব সময় মন খারাপ-মানসিক অবসাদের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ-দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা। আগে যেসব কাজ বা বিষয় ভালো লাগতো, সেগুলোতেও আর আগ্রহ থাকে না। সারাক্ষণ এক ধরনের শূন্যতা বা দুঃখবোধ কাজ করে।অল্পতেই রাগ বা বিরক্তি-মানসিক অবসাদে ভুগলে মানুষ অনেক সময় অকারণে রেগে যান। সামান্য বিষয়েও মেজাজ হারিয়ে ফেলা, চিৎকার করা বা অস্বাভাবিক বিরক্তি প্রকাশ করা এর লক্ষণ হতে পারে।অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হওয়া-খুব ছোট ঘটনায় অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। নিজেকে খুব অসহায় বা অমূল্য মনে হওয়াও এর অংশ। সব সময় ক্লান্ত লাগে-কোনো কাজ না করেও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, শরীর ভারী মনে হওয়া বা কাজ করার শক্তি না পাওয়া মানসিক অবসাদের বড় লক্ষণ। এটি শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক অবসাদ থেকেও এমন হতে পারে।কাজে অনীহা ও আগ্রহ হারানো-দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, অফিস বা ঘরের দায়িত্ব—কিছুই করতে ইচ্ছে না করা, বারবার কাজ ফেলে রাখা বা সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন-হঠাৎ করে খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে কমে যাওয়া বা উল্টোভাবে অস্বাভাবিক বেশি খাওয়া—দুই-ই মানসিক অবসাদের সঙ্গে জড়িত হতে পারে।কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন-যদি এই লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে ডিপ্রেশন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
২ সপ্তাহ আগে