জাহিদ হাসান, ইতালি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬ রাত ১১:১৭:৫৫
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য: ঢাকার এয়ারফ্রেইটে কোটি টাকার ১০১ কার্টন জব্দ
মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য আনার অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১০১ কার্টন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ও এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট-৮ সংলগ্ন ইয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে Sardar Global Trade নামে একটি প্রতিষ্ঠান Air Waybill No. 176-63518722-এর মাধ্যমে চালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টস ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।চালানটি খালাসের জন্য আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট Fahim 5 Star Ltd. ASYCUDA World System-এ Bill of Entry No. C-764177 (তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৬) দাখিল করে।তবে আগে থেকেই পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা শুরু করে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে ব্যবহৃত ও ঘোষণাবহির্ভূত বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আমদানি নীতিমালা ও কাস্টমস বিধি লঙ্ঘনের শামিল।জব্দ করা ১০১ কার্টনের মধ্যে রয়েছে—এইচপি, ডেল, লেনোভো ও মাইক্রোসফট ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত ৪৫০টি ল্যাপটপ, ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি গাড়ির যন্ত্রাংশ, ৬ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৯৬টি হার্ডড্রাইভ, ২৯১ দশমিক ১৪ কেজি কসমেটিক্স এবং ৯৬টি ব্যবহৃত মিনি পিসি।কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শুল্ক-কর পরিশোধ করেও আইনগতভাবে খালাসের সুযোগ নেই।
বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কসমেটিক্স এবং ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স নতুন পণ্য হিসেবে বাজারজাত করে ভোক্তাদের প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশগত দিক থেকেও এসব ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ক্ষতিকর।এ ছাড়া জব্দ করা মোটর পার্টসগুলো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আনা কোনো সম্পূর্ণ গাড়ির অংশ কি না, অথবা চেসিস আলাদাভাবে আমদানি করা হয়েছে কি না—সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।