বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৫:১১:৪৫
বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল কুপিয়ে হত্যা
বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে ইউনিয়ন পরিষদের এক সাবেক সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম (৫৫) আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সাইফুল ইসলাম বাঘোপাড়া বন্দর মোড় এলাকায় চা পান করতে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হামলার সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার মুরগির ফার্মের এক কর্মচারী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ওই কর্মচারীর দাবি, রাকিব, রমজান ও নিঝুম নামে তিনজন তাদের পথরোধ করে সাইফুলকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি স্থানে নিয়ে যান। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
তিনি বলেন, হামলার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারীরা তাকে বলেন, ‘তুই যদি আমাদের নাম বলিস, তাহলে তোকেও শেষ করে দেব।’এরপর তাকেও আক্রমণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ওই কর্মচারী বলেন, তিনি এতিম, তার বাবা-মা কেউ নেই। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিজের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় বিভিন্ন বিরোধ ও পারিবারিক সমস্যায় তিনি সালিশ-দরবার করতেন।
স্বজনদের দাবি, বিভিন্ন মানুষের বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি তিনি অনেকের পারিবারিক দ্বন্দ্বেও সালিশ করেছেন। এসব সালিশকে কেন্দ্র করে কারও সঙ্গে তার বিরোধ বা শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
নিহত সাইফুল ইসলামের স্বজনদের ধারণা, পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে সালিশ-দরবারই হত্যার কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাকিব, রমজান ও নিঝুমের নাম প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে উঠে এলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।