শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:০২:২৩
মিঠাপুকুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৯ নম্বর ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম মুকুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা (মেম্বার)। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সদস্যদের স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগ মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিষদের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গত প্রায় ৩০ মাস ধরে নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়নি। ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া এলজিএসপি ও অন্যান্য খাতের ১ শতাংশ বরাদ্দের প্রায় ৬০ লাখ টাকা কোনো সদস্যকে অবহিত না করে এবং রেজুলেশন ছাড়াই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। পরিষদের টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলোও সাধারণ সভা ছাড়াই গোপনে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। বিশেষ করে ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ বিভিন্ন খাত থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছামতো ব্যয় করছেন। এমনকি শুকুরেরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১২ লাখ টাকাও কোনো সভা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই এককভাবে উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ইউপি সদস্য বলেন, “চেয়ারম্যান আমাদের কোনো মূল্যায়ন করেন না। পরিষদের সভায় আমরা নিজেদের মতামতও দিতে পারি না। দীর্ঘদিন ধরে সম্মানী ভাতা না পাওয়ায় আমরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় আছি।”
ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মিজানুর রহমান ও নাজমুল হক বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাদের মতামত উপেক্ষা করে পরিষদের লাখ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয় করছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম মুকুল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিষদের সব কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”