মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:২৭:১৪
টেন্ডার ও ভুয়া বিলের অভিযোগে মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তর: দীর্ঘদিন একই স্থানে থেকে প্রভাব
মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তরে টেন্ডার দূর্ণীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, দীর্ঘ দিন একি স্থানে কর্মরত থেকে আধিপত্য বিস্তার করে চলছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের এই টেন্ডার ও বিল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেরামত ও নির্মাণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমিশনের নিয়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বাইরে অন্যদের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজবাড়ি এক ঠিকাদরী প্রতিষ্ট্রান ২ টি লাইসেন্সে ১৩টি, চট্রগ্রামের ৪ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ট্রান ৪টি, বি.বাড়িয়ার ঠিকাদার পায় ৩ টি । স্থানীয় ঠিকাদারের কোটেশন রহস্য জনক ভাবে লটারীতে উঠেনা।
গত ২৪ জুলাইর ৫ আগষ্টের পর উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহীর ভাগ্য খোলে যায়। নেছার আহমেদ এর মনুমুখ সাধুহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঠিকাদারের কাজ বাতিল করে শিক্ষা অধিদপ্তর। পরে শিক্ষা অধিদপ্তর কৌশলে ঐ কাজটি তারা নিজ দায়ীত্বে করে। শুধু মালামাল সাপ্লাইয়ের জন্য মৌলভীবাজার মা এন্টারপ্রাইজ ঠিকদারী প্রতিষ্ট্রানের সাথে চুক্তি করা হয়। ওই প্রতিষ্ট্রান ৯৯ লাখ টাকার মালামাল সাপ্লাই করার পর ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর বাকী টাকা পরিশোধ করেনি শিক্ষা অধিদপ্তর।
২৫ সালে কুলাউড়া গিয়াসনগর মাদ্রাসা বালু ভরাট করে ঢালাই করার কথা। কিন্তু মাটি ছেড়ে ঢালাই করার নির্দেশ দেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
গত ২৩-২৪ সালে মৌলভীবাজার সদরের বঙ্গবন্ধু স্কুলের রিপিয়ারি কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার পালিয়ে যায়। উপ সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী কৌশলে বিল উত্তলোন করেন। সব চেয়ে আতংন্কে বিষয় হলো নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন ও উপ সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী অনেক টেন্ডার নোটিশ সময় মতো প্রকাশ না করে গোপনে পচ্ছন্দের ঠিকাদারকে আগেই কাজ দিয়ে দেন। পরে বেক ডেইটের কোন একটি পত্রিকায় টেন্ডার নোটিশ ছাপিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে উপ সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী অভিযোগ অস্বীক্ষার করে বলেন, আমি কিছু বলতে পারবোনা। সবকিছু নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার বলতে পারবেন। তবে স্বীক্ষার করে বলেন, সবকিছু নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার আমার সাথে পরামর্শ করে করেন।
মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতিশ চন্দ্র দাস বলেন, আগে কাজ করে পরে টেন্ডার প্রকাশ করার কোনো বিধান আমাদের এখানে নেই। আর আমার উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী ব্যাপারে যে কমপ্লেইন করুক, সে হয়তো তার যেকোনো একটা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে করেছে। যা মিথ্যা এবং বানোয়াট।
কারণ সেই উপসহকারী প্রকৌশলী তার উপরে আমার জন্য সহকারী প্রকৌশলী আছেন। তারপরে আমি। তার প্রভাব কাটানোর বা দাপট দেখানোর মতো কোনো কাজ বা সুযোগ তার নেই। আমার অফিসের কাজ আমি নিজেই সব তদারকি করি। আমরা স্টাফ সংকটে আছি ও সে আমার অফিসে সাড়ে তিন বছর। এর আগে সে ফিল্ডে ছিল। প্রায় আরো একজন ঠিকেদারের চেক অন্য ঠিকেদারকে নামে করার কোনো সুযোগই। তিন চার বছর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। যে ছাব্বিশটা, পঁচিশ ছাব্বিশটা কাজ এখানে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এগুলো সবগুলো লোকাল ঠিকাদারেরই ছিল। কাজগুলো বাতিল করে যখন আমরা ওটিএম টেন্ডারে দিলাম, ওপেন টেন্ডারিং, বাংলাদেশের যে কেউ পার্টিসিপেট করতে পারে। আপনার ওই স্থানীয় ঠিকাদার, যাদের কাজ বাতিল করা হয়েছে, তারা কিন্তু টেন্ডারে পার্টিসিপেট করেননি। এখানে রাহী তো কাউকে কাজ দেওয়ার বা কাউকে সহযোগীতা করার কোনো সুযোগ নেই। আচ্ছা, এখানে যে নিয়ে এই কথা বলেছেন, সেটা কথাটা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যে। কারণ আমার অফিসটা আমি পরিচালনা করি এবং আমার অফিসের সব ডাটা আমার কাছেই থাকে। আমার শিক্ষা অফিস দপ্তরের কাজ ঠিকাদার আসলে কাজের মান সঠিক ভাবে করেননি। কিছুটা কিছু জায়গায়, যেমন রং এর কাজটা আমার খুব দুর্বল ছিল। অনেক জায়গায় আপনারা দেখবেন রং উঠে যাচ্ছে। শুনলে অবাক হবেন ৪ তলা বিশিষ্ট ৫ টি কাজে ঠিকাদার টেন্ডার না দেওয়ায় ফান্ড ফেরৎ যায়। যারা অভিযোগ করেছে তারা নিজ স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এমন অভিযোগ করেছে।