শাহপরান, কসবা আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১:৫৮:০০
প্রেমের টানে চীন থেকে কসবায় চীনা যুবক, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে—এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করার পর তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী মানুষ ওই যুবককে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।
জানা গেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম মিয়ার মেয়ে আয়েশা সুলতানার সঙ্গে চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সনং হানজোর অনলাইনে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সনং হানজো। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন ২০২৬ বাংলাদেশে আসেন তিনি। এরপর ১৪ জুন ২০২৬ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক আয়েশা সুলতানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ৯ জুলাই ঢাকা থেকে নববধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কসবার বাইসার গ্রামের বাড়িতে আসেন। তবে বিষয়টি ১৮ জুলাই (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঘটনাটি।
চীনা যুবক মোহাম্মদ (সনং হানজো) জানান, তিনি চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত। তার পরিবারে বাবা ও এক বোন রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আয়েশাকে ভালোবেসেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং বিয়ে করেছি। ভবিষ্যতে তাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে।”
আয়েশা সুলতানা বলেন, “অনলাইনে আমাদের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস কথা বলার পর আমাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে আমরা বিয়ে করি। সে আমাকে চীনে নিয়ে যেতে চায়।”
আয়েশার মা বলেন, “আমরা মেয়ের ভালো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছি। ছেলের পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তারা আমাদের মেয়েকে নিজের সন্তানের মতো দেখাশোনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।”
আয়েশার বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই করেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আশা করি তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করবে।”
এদিকে, গ্রামের বাড়িতে চীনা জামাইকে দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন। অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং কথা বলছেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশিদের মাধ্যমে প্রতারণা ও মানবপাচারের বিভিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তাই তারা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, আন্তঃদেশীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতারণা, মানবপাচার বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, এটি সত্যিকারের ভালোবাসার পরিণতি, নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনো বাস্তবতা সামনে আসবে—সেই প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে নবদম্পতিকে ঘিরে কসবার বাইসার গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।