নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৪৪:২৮
রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজের তিন দিন পর বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ভাসমান অবস্থায় এক বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার গর্জনটিলা এলাকায় হ্রদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. মাসুদ (৫০) কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একজন ব্যবসায়ী।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া এলাকা থেকে নিজস্ব ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাপ্তাইয়ে ফেরার পথে গর্জনটিলা এলাকায় নিখোঁজ হন মাসুদ। পরে তাঁর নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলেও তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজের পর নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা যৌথভাবে টানা উদ্ধার অভিযান চালালেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাই পেপার মিলসের (কেপিএম) চিপার হাউসে অস্থায়ী নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ও আশপাশের এলাকায় মৌসুমি ব্যবসাও করতেন।
নিহতের বড় মেয়ে মাইশা আক্তার তমা জানান, শনিবার সকালে ফারুয়া বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তাঁর বাবা। দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, গর্জনটিলা এলাকায় তাঁর নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় দেখা গেছে, কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না।
খবর পেয়ে কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন এবং কাপ্তাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পরে বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটির লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহ আব্দুল্লাহ নাসেরের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর আট সদস্যের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ, কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হাকিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত নৌকা থেকে পড়ে মাসুদ কাপ্তাই হ্রদের গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কয়েক দিন তল্লাশি চালায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত নৌকা থেকে পড়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকা থেকেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে কাপ্তাই থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।