মামলায় দুই অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যসহ আসামি ৫
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০:১৫:৫৬
চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিনবয় গ্রেপ্তার
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ট্রেনের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ। মামলায় ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনাটি সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী ট্রেনটি চলার সময় ঘটে বলে মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থল বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানার আওতাধীন এলাকা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার সময় ট্রেনটি নাটোর এলাকার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই নারী ভুল করে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন। পরে তাঁকে আসন দেওয়ার কথা বলে ট্রেনের খাবারের বগিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও তাঁকে হয়রানি ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী চিৎকার করলে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন। তাঁকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯৯৯-এ ফোন, সান্তাহারে পুলিশের অভিযান
ঘটনার পর ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান বলে প্রতিবেদনে এসেছে। ৯৯৯ থেকে ট্রেনটির অবস্থান জানতে পেরে সান্তাহার রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার এবং আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালতে ভিন্ন দাবি আবু বক্করের
তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বক্কর ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্মতিতে সম্পর্ক হয়েছিল। ফলে মামলার অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তের দাবির মধ্যে কীভাবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারিত হবে, সেটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রশ্নের মুখে ট্রেনের নিরাপত্তা
ঘটনাটি শুধু একজন ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই; ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের নিরাপত্তা, খাবারের বগিতে যাত্রীদের প্রবেশ ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মামলায় দুই অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় তাঁদের পরিচয়, ঘটনার সময় তাঁদের অবস্থান এবং অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ট্রেনে যাত্রী নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।