শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:২৪:০২
জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবাবঞ্চিত ছেংগারচর পৌরবাসী, কার্যক্রমে স্থবিরতা
মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পৌরবাসী।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রজ্ঞাপনে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সকল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে।
সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে দেওয়া হতো। পাশাপাশি ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কাজেও কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো। বর্তমানে এসব সেবা পেতে নাগরিকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও অধিকাংশ সময় তারা উপস্থিত না থাকায় সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বালুরচর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন জানান, আগে সনদের জন্য কাউন্সিলরদের সুপারিশ পাওয়া যেত, এখন সেই সুযোগ না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।
আরেক বাসিন্দা বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রতিটি কাজেই অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে, এমনকি জরুরি সেবাও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।
ছেংগারচর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে সপ্তাহে একদিন পৌরসভায় এসে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে প্রশাসকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, তিনি উপজেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ সেবা না পেলে সরাসরি তার কাছে পাঠালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ না নিলে পৌরসভার সেবা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।