শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ রাত ০৬:৩৭:১০
গঙ্গাচড়ায় বৃষ্টি থামলেও কাটেনি সংকট, নিম্নাঞ্চলে তলিয়ে থাকা ধান কাটতে হিমশিম কৃষক
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি থেমে গেলেও এখনো নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে রয়েছে। জমিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় ধান কাটতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক স্থানে হারভেস্টার নামানো সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিক দিয়ে পানির মধ্যেই ধান কাটতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিঘাপ্রতি কয়েক হাজার টাকা বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলার আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারী, কোলকোন্দ, মর্নেয়া ও গজঘণ্টা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, পাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও শুধু ধানের শিষ দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও পুরো গাছই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ধানের শিষ কালচে হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ধানে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বৃষ্টি থেমে গেলেও পানি নামার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভরাট হয়ে থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে ধান কাটা ও বাড়িতে নেওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
মর্নেয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, “ধান পুরোপুরি পেকে গেছে। কিন্তু জমিতে এত পানি যে মেশিন নামানো যাচ্ছে না। শ্রমিক দিয়ে পানির মধ্যে ধান কাটতে হচ্ছে। আগে যেখানে এক বিঘা ধান কাটতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগত, এখন লাগছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।”
একই এলাকার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “পানির মধ্যে ধান পড়ে থাকায় অনেক ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। দ্রুত পানি না নামলে ফলনও কমে যাবে। ধান শুকানো নিয়েও সমস্যা হবে।”
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে রয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রুবেল হোসেন বলেন, “নিম্নাঞ্চলের কিছু জমিতে পানি জমে আছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।”
এদিকে ধান কাটার মৌসুমে অতিরিক্ত খরচ ও সম্ভাব্য ফলনহানির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।