নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৮:৩৫:৫৬
কক্সবাজারে এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১২ জনের মতো দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। আশপাশের ঘরবাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৯টার দিকে কলাতলীর হোটেল–মোটেল জোনের পূর্ব
দিকে আদর্শগ্রামে ওই পাম্পে বিস্ফোরণ হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস গণমাধ্যমকে
জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে।
আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগতে
পারে।
গ্যাসপাম্পটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রামের টিঅ্যান্ডটি
টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে চন্দ্রিমা হাউজিং সোসাইটিতে প্রবেশের মুখে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহনগুলো শহরে ঢোকে। গ্যাস পাম্পের আশপাশে রয়েছে অন্তত
পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। কিছুটা দূরে (পশ্চিমে) কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন, সেখানে রয়েছে
দুই শতাধিক বহুতল ভবনের হোটেল-রেস্তোরাঁ। আর পূর্ব পাশে রয়েছে পুলিশ লাইন্স, জেলা কারাগারসহ
একাধিক আবাসিক ভবন। গ্যাসপাম্প থেকে ছড়ানো আগুন রাত ১১টার মধ্যে কলাতলী-আদর্শগ্রামসহ
দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে আশপাশের বাসিন্দারা এদিন–ওদিক ছুটতে থাকেন।
নারীরা আশ্রয় নেন পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়।
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর পাম্পের ট্যাংক
থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে
তা বন্ধ করেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। পরবর্তী
সময়ে সেই আগুন চারদিকে ছড়াতে থাকে।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন,
এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েকদিন আগে চালু করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে
পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর
ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই গ্যাস ট্যাংকে বিকট শব্দে
বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে
আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।