লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৫:১৫
উচ্চ বেতনের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যুবকদের পাঠানোর অভিযোগ, প্রতারকদের বিচারের দাবি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার চার যুবককে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। যুবকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পাটগ্রাম উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী, সাবেক শিবির নেতা মাহিন এবং পাটগ্রাম পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানার সহযোগিতায় উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে আর এস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে চার যুবককে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরিবারগুলোর দাবি, জনপ্রতি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে গত ৭ মে তারা রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর যুবকেরা বুঝতে পারেন যে তাদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরং তাদের রুশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মানবপাচার ও প্রতারণার মাধ্যমে দেশের যুবকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তারা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে চার যুবককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত শনিবার চারটি পরিবার পাটগ্রাম থানায় ইউনুস আলী, সোহেল রানা ও মাহিনকে আসামি করে চারটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল। তিনি বলেন, “প্রলোভন দেখিয়ে দেশের যুবকদের বিদেশে পাঠিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আটকে পড়া যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।