রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ দুপুর ০১:৫৯:০৩
বগুড়ায় কোটিপতি ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা: সাবেক স্ত্রী, বর্তমান স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা
“বনমালী মালি তুমি পরজনমে হইও রাধা... তুমি আমারিই মত জ্বলিয়া জ্বলিও, বিরহ কুসুমহার গলেতে বান্ধিও...” — এমন আবেগঘন কথামালা লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আত্মহত্যা করেন বগুড়ার ডাল ব্যবসায়ী রাহুল যাদব গোয়ালা।
এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার সাবেক স্ত্রী, বর্তমান স্বামী ও সাবেক শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (১৭ মে) রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন নিহতের পিতা নিরঞ্জন প্রসাদ গোয়ালা।
নিহত রাহুল যাদব গোয়ালা বগুড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নামাজগড় ডালপট্টির একজন পরিচিত ডাল ব্যবসায়ী ছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন— রাহুলের সাবেক স্ত্রী প্রিয়া রানী মহন্ত (২৮), তার বর্তমান স্বামী হৃদয় মহন্ত (২৫) এবং প্রিয়ার পিতা প্রদীপ মহন্ত ওরফে ভম্বল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে রাহুল যাদব গোয়ালার সঙ্গে প্রিয়া রানী মহন্তের বিয়ে হয়। পরে গোপন সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পরও প্রিয়া রানীর সঙ্গে হৃদয় মহন্তের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে হৃদয় মহন্ত ও প্রিয়ার পিতা প্রদীপ মহন্তকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়ে রুপশ্রী যাদবকে (৮) কোচিং সেন্টারে নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন প্রিয়া রানী। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। কয়েক দিন পর তিনি হৃদয় মহন্তকে বিয়ে করেছেন মর্মে একটি হলফনামা পাঠান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাড়ি ছাড়ার সময় প্রিয়া রানী নগদ ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার পর রাহুল যাদব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্ত্রীর চলে যাওয়া ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে রাহুল চরম মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসেও সেই কষ্টের প্রতিফলন দেখা গেছে।