শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:৫৮:০১
মতলব উত্তরে শসা চাষে লোকসান, খিরা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় চলতি মৌসুমে শসা চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক। তীব্র শীতের সময়ে চারা গজাতে সমস্যা, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং বাজারে কম দামের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে অনেক কৃষক শসা চাষ ছেড়ে খিরা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে খিরা ও শসা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা মো. আতাউর রহমান সরকার জানান, তিনি ১৬ শতক জমিতে শসা চাষ করে আশানুরূপ লাভ করতে পারেননি। তীব্র শীতের কারণে তিনবার বীজ বপন করেও ঠিকমতো চারা গজায়নি। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলনও কম হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১০ হাজার টাকার শসা।
মিঠুরকান্দি গ্রামের কৃষক হাসিব মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করে শসা চাষ করেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক খরচও উঠাতে পারেননি। ফলন কম হওয়া এবং বাজারে দাম কম থাকায় তিনি বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলার ষাটনল গ্রামের খিরা চাষি জামাল ও মনির হোসেন জানান, খিরা চাষে তারা তুলনামূলক ভালো লাভ পাচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে খিরা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে শসার দাম মাত্র ২৫ টাকা কেজি। ফলে অনেক কৃষক এখন শসা চাষের পরিবর্তে খিরা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সল মোহাম্মদ আলী বলেন, এই সময়টাতে বাজারে খিরা ও শসা—দুটোরই চাহিদা থাকে। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় শসার ফলন কিছুটা কম হয়েছে। অন্যদিকে খিরা চাষে তুলনামূলক ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় অনেক কৃষক শসা চাষের পরিবর্তে খিরা চাষে ঝুঁকছেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে পারেন এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমে।