কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ রাত ১১:২৩:৫১
চার স্তরের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহ্যের শোলাকিয়া, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায়
বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান নিদর্শন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য। শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় এবার এখানে অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত, যা ঈদের দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মুসল্লির সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এবারের জামাতে ইমামতি করবেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০৬টি কাতার, যেখানে প্রতিটি কাতারে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু ও বিভিন্ন ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জামাতকে ঘিরে মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, চুনকাম, অজুখানা স্থাপন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য, র্যাব ও এন্টি-টেররিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে। মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের একাধিক চেকপোস্ট ও পিকেট অতিক্রম করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও কুইক রেসপন্স ইউনিট। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মাঠে প্রবেশের সময় মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ বহনের অনুমতি থাকবে। মোবাইল ফোন ও ব্যাগ বহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী। এছাড়া ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস। ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে আসবে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির জন্য পানির ভ্যান, নলকূপ, অস্থায়ী অজুখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হবে—নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে।
ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্যের গৌরব ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য। লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হবে পুরো এলাকা এবং একসঙ্গে ধ্বনিত হবে তাকবির।