নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ রাত ০৬:৪৭:১৮
শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধামে শ্রীকৃষ্ণের দোল উৎসব: ধামাইলে মেতে উঠলেন চীনা নাগরিকরাও
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তারাপাশায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় কেন্দ্র শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধাম–এ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের দোল উৎসব। রঙের আবির, ভক্তিমূলক সংগীত এবং সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ধাম প্রাঙ্গণ। এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল চীনা নাগরিকদের অংশগ্রহণ, যা উৎসবে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছে।
উৎসব উপলক্ষে ধাম প্রাঙ্গণে বসেছে জমজমাট মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীরা ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পাদচিহ্ন দর্শন ও মহাপ্রসাদ গ্রহণে অংশ নেন। মন্দির চত্বরে রঙিন আলোকসজ্জা, ফুলের সাজসজ্জা এবং নানা ধরনের দোকানপাটে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খাবারের স্টল, ধর্মীয় বই-পুস্তক, ফুল-মালা ও শিশুদের খেলনার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
বিশেষ করে শ্রীবিষ্ণুর মহাভোগ উপলক্ষে ৪, ৫ ও ৬ মার্চ ভক্তসমাগম আরও বেড়ে যায়। মহাপ্রসাদ বিতরণের সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া চীনা নাগরিক শিয়ুয়ান হুই বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসব খুবই প্রাণবন্ত। ধামাইল নৃত্য ও রঙের উৎসবে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।” তিনি আরও বলেন, “এখানকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা যে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি, তা আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করবে।”
ধামের প্রধান পুরোহিত কিশোর কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, “দোল উৎসব মানেই ভক্তি আর আনন্দের মিলন। বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।” উৎসব উপলক্ষে দিনব্যাপী কীর্তন, পূজা-অর্চনা ও প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের তৎপর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুদ্রজিত দে জানান, “প্রতিবছরই শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দোল উৎসব পালন করা হয়। এবার বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। চীনা নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সব মিলিয়ে শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধাম–এ এবারের দোল উৎসব হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক অনন্য মিলনমেলা।