হাবিব রহমান, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ রাত ০৮:১৭:২০
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে জামালগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ মিছিলে অংশ নেন এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিল শেষে হাসান আল মাছুমের সঞ্চালনায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাফেজ মুফিজুর রহমান আলাল, ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম সরকার, ছাদিকুর রহমান স্বাধীন খান, কাব্বির মোহাম্মদীসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন ও সহিংসতা চালানো হচ্ছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিরীহ মুসলমানদের ওপর হামলা, মসজিদ-মাদরাসায় আক্রমণ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, এসব নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব নেতাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
হাফেজ মুফিজুর রহমান আলাল বলেন, পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলমান নির্যাতিত হলে তা পুরো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত হানে। তিনি মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় তরুণ সমাজকে সচেতন হয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ ধারণ করতে হবে।
আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বিশ্ব মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছাদিকুর রহমান স্বাধীন খান বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোনো জাতি বা ধর্মের মানুষের ওপর অন্যায়-অবিচার কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কাব্বির মোহাম্মদী বলেন, মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ মুসলিম সমাজই অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।
সমাবেশ শেষে মাওলানা জসীমউদ্দিন বিশ্ববাসীর শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।