লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ রাত ০৬:০১:৫০
লালমনিরহাটে ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, আহত ৩০ পুলিশ সদস্য; ওসি ক্লোজড
মঙ্গলবার উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।
আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হককে থানা থেকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।
আটক যুবক হলেন ফলিমারী গ্রামের ধনঞ্জয় বর্মণের ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩)। নিহত শিশু একই গ্রামের কৃষক নলিনী চন্দ্র বর্মণের মেয়ে নন্দিনী রানী (৭)। সে স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে মাটি খোঁড়া ও গাছ ভাঙা দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে সেখানে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে তিনটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে ডিসি ও এসপির গাড়িসহ অন্তত ছয়টি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
শিশুটির বাবা নলিনী বর্মণ অভিযোগ করেন, মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে সোমবার রাত ১১টার দিকে থানায় গেলে ওসি গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, “পুলিশ যদি রাতেই ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো আমার মেয়েকে জীবিত পাওয়া যেত।”
শিশুটির মা সাবিত্রী রানী বলেন, “আমার মেয়েকে হয়তো প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা জোর করে ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসপি আসাদুজ্জামান বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”