নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:৩২:৩৯
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক হিসেবে তোফাজ্জল হোসেনকে নিয়োগের দাবি
নরসিংদীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব তোফাজ্জল হোসেনকে নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য তিনি নরসিংদীর মানুষের কাছে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি বিএনপির দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং অতীতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অবদান নরসিংদীর মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। এজন্যই অনেকেই মনে করছেন, জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব দিতে পারলে জেলা পরিষদ আরও গতিশীল হবে।
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিষ্কার ভাবমূর্তি, অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তোফাজ্জল হোসেন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
স্থানীয় নেতা ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে নরসিংদীর নেতৃত্বে এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, রোববার (১৫ মার্চ) দেশের ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এখনও নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের যৌক্তিকতা:
দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব:
তিনি টানা ২৭ বছর নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেছেন এবং বর্তমানে জেলা কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঐতিহাসিক উত্তরসূরি:
'৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদের ছায়াসঙ্গী এবং বিএনপির সাবেক সফল মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী তিনি।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তি:
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর দেশপ্রেম এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো কালিমা না থাকায় তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
গণমানুষের দাবি:
নরসিংদীর প্রবীণ ও নবীন—উভয় প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য এই ত্যাগী নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দেখতে পাওয়া এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
এমন একজন অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিকে প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হলে নরসিংদী জেলার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে।