কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:০৫:০১
নানা আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই গাজীপুরের পিরুজালির বাগানবাড়ি নুহাশপল্লীতে আসেন ভক্তরা। লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই ছেলে নিনিত ও নিষাদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে লিচুতলায় হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করা হয়। তার আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়। আয়োজন করা হয় কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল।
প্রতিবারের মতো এবারও ভক্ত, কবি-লেখক, নাট্যজন ও সংস্কৃতিকর্মীরা ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়। নন্দিত লেখকের প্রিয় চরিত্র হিমু এবং রূপার সাজে হলুদ পাঞ্জাবি ও নীল শাড়ি পরে আসেন অনেক ভক্ত। তারা লেখকের প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা জানান।
এসময় হুমায়ূন আহমেদের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, সর্বসাধারণের জন্য কোন লাইব্রেরী এখনো করা হয়নি। কারন আমাদের বাংলাদেশের মানুষের একটু স্বভাব খারাপ। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করণের এক দুবার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু এরা বই নেয় বই ফেরত দেয় না। এজন্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরী করার পরিকল্পনা এখন আর নেই। তবে আহমেদের যারা সত্যিকারের ভক্ত হন, তিনি নিজেই সংগ্রহ করবেন৷
এসময় শাওন আরও বলেন, গত ১৪ বছর ধরে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন-মৃত্যুদিন শুধুমাত্র নুহাশ পল্লীর কর্মীরাই পালন করি। সরকার রাস্ট্র কারও কাছেই আমার কিছু চাওয়ার নেই হুমায়ুন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে৷ আগে আশা ছিল এখন সেটিও নেই। যতোদিন নুহাশ পল্লীর কর্মীরা, ভক্তরা রয়েছে, আমার সন্তান রয়েছে, আমরাই পালন করবো।
আগত ভক্তরা জানান, এই লেখক বাঙালি পাঠক সমাজকে আনন্দ দিয়েছেন এবং বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে ততদিন হুমায়ূন আহমেদ পঠিত হবে। তাকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর এই নিভৃত পল্লীগ্রামে আসা হয়৷ তবে নুহাশ পল্লীতে কোন লাইব্রেরি নেই। এখানে যদি লাইব্রেরি থাকতো, তাহলে আমরা যারা তার বই পছন্দ করি তারা এসে পড়তে পারতাম, স্মৃতিচারণ করতে পারতাম কিন্তু এই ব্যবস্থাটা এখানে নেই। আমরা আশা করবো নুহাশ পল্লী কর্তৃপক্ষ যেনো একটা লাইব্রেরির ব্যবস্থা করে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান৷