মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:৪২:৫৪
মৌলভীবাজারে ভূমির মালিকানা নিয়ে জেলা পরিষদ-জেলা প্রশাসনের দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা
মৌলভীবাজার সদরের আপার কাগাবালা বাজারে একটি সরকারি জমির মালিকানা ও ইজারা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, আরএস (RS) রেকর্ড অনুযায়ী কাগাবালা মৌজার ১২৮ নম্বর জেএল, ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আরএস দাগ নং ৩১৬২-এর ১৯ শতাংশ জমি জেলা প্রশাসনের নামে রেকর্ডভুক্ত। অন্যদিকে জেলা পরিষদ বলছে, এসএ (SA) দাগ নং ২৫৫১ অনুযায়ী জমিটির মালিকানা তাদের।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে জেলা পরিষদ উক্ত জমির ৮০০ ও ৯৬০ বর্গফুট অংশ মো. আনোয়ার মিয়া ও তার ছেলে কবির উদ্দিনের নামে একসনা ইজারা প্রদান করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ইজারা নবায়ন করা হয়। বর্তমানে ওই জমির ওপর স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন কবির উদ্দিন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজারের ভেতরে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২৫ সালে স্থানীয়রা ইজারা বাতিলের দাবিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে বিষয়টি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের মধ্যে বিরোধ প্রকট হয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য সদর ভূমি অফিসে আবেদন করেছে। এর প্রেক্ষিতে ভূমি অফিস একাধিকবার সরেজমিন তদন্তের জন্য সার্ভেয়ার পাঠিয়েছে।
সচেতন মহল আশঙ্কা করছে, সংশ্লিষ্ট দুই কর্তৃপক্ষের এই বিরোধ ও অবহেলার কারণে কাগাবালা বাজারে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার স্বাধীন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ফুল মিয়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা খছরু নবী এবং প্রবাসী শাহীন মিয়া জানান, বাজারের পাশে স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, মাদ্রাসা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকায় এখানে প্রতিদিন বিপুল যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু বাজারের ভেতরে সরকারি জমি ইজারা দেওয়ায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তারা আরও বলেন, একসনা ইজারার জমিতে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ আইনসঙ্গত নয়। অতীতে যানজটের কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিশুর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করে তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ইজারা বাতিলের দাবি জানান।
এদিকে ইজারাগ্রহীতা মো. কবির উদ্দিন বলেন, “আমার পিতা ১৯৯০ সালে জেলা পরিষদের এসএ খতিয়ানভুক্ত জমি লিজ নেন। আমরা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছি। মাঠ জরিপের সময় ভুলবশত জমিটি জেলা প্রশাসনের নামে রেকর্ড হয়েছে। জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করেছে। আমি যাত্রী ছাউনি লিজ নিইনি এবং এখানে কোনো দোকান স্থাপন করিনি।”
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি আমার আগের সময়ের। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”