মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:১৫:২৯
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে মৌলভীবাজারে বাজারে জমে ওঠেনি ঈদের কেনাকাটা
প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজার। ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত জমজমাট থাকে মৌলভীবাজার জেলায়। তবে এ বছর সেই চিরচেনা ব্যস্ততা এখনো দেখা যাচ্ছে না। ঈদের আর অল্প সময় বাকি থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত সেই জমজমাট পরিবেশ চোখে পড়ছে না। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে শহরের মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলার অর্থনীতির বড় একটি অংশ নির্ভর করে প্রবাসী আয়ের ওপর। প্রতি ঈদে প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও রেমিট্যান্সের টাকায় জমে ওঠে ঈদবাজার। তবে এবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয়েও। ফলে আগের বছরের তুলনায় প্রবাসীরা কম এসেছেন এবং বড় কেনাকাটাও কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেই আনন্দের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর দর্জিরা। সকাল থেকে গভীর রাত পার্যন্ত একটানা কাজ করছে দর্জিরা। নতুন জামা বানাতে ক্রেতাদের ভিড়, অর্ডারের চাপ আর সময়মতো ডেলিভারির তাগিদে নিঃশ্বাস ফেলারও সুযোগ নেই তাদের।
ঈদকে ঘিরে দোকানগুলো সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে। শহরের ছোট-বড় শপিং মল, মার্কেট, বিপণি বিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, গৃহস্থালির পণ্যসহ নানা সামগ্রী কিনতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাজারে আসছেন ক্রেতারা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো তুলনামূলক কম দামের কারণে ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকান ও স্বল্পমূল্যের মার্কেটগুলোতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। প্রতিবছর ঈদের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন মানুষ। কিন্তু এবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকলেও প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না।
ক্রেতা সুমি বেগম জানান,“ঈদ তো বছরে একবারই আসে। তাই পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে আগের মতো বেশি কেনাকাটা করতে পারছি না, দাম অনেক বেশি।” “বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি।
ক্রেতা রহিম মিয়া জানান মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় ফুটপাতের দোকান থেকেই কেনাকাটা করছি।” “ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে আগের মতো বেশি কেনাকাটা করা যাচ্ছে না, সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে।”
বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, “আগের বছরগুলোতে ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু এবার ক্রেতা অনেক কম। বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না।”
আরেক ব্যবসায়ী মহিম দে জানান, জেলার প্রবাসী নির্ভর অর্থনীতির কারণে প্রতি ঈদে এখানে কেনাকাটায় বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তুচলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। ফলে আগের বছরের তুলনায় প্রবাসীরা দেশে কম এসেছেন এবং খরচের ক্ষেত্রেও কিছুটা সংযত রয়েছেন। “বাজারে মানুষের ভিড় আছে, কিন্তু বিক্রি আগের মতো হচ্ছে না। প্রবাসীরা কম আসায় বড় কেনাকাটা কমে গেছে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার, মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,“ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মার্কেটে ফোর্স ও মোবাইল টিমের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য চেকপোস্টের সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে।