মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:৩৫:৪৯
চ্যানেল এসের সংবাদে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার ভাঙন রোধে কাজ শুরু
তিস্তার তীব্র স্রোত আর ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছিল নদীপাড়ের মানুষের। চোখের সামনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন পার করছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়ার বাসিন্দারা। অবশেষে তাদের সেই আতঙ্ক কিছুটা কমেছে। ভাঙন ঠেকাতে মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
কাচাড়ীপাড়ায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে চ্যানেল এস-এ সংবাদ প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙনরোধে কাজ শুরু করেছে পাউবো। প্রাথমিকভাবে নদীভাঙন ঠেকাতে ৭০০টি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, তিস্তার যে তীব্রতায় ভাঙন শুরু হয়েছে, সেখানে ৭০০টি জিও ব্যাগ নিতান্তই অপ্রতুল। দ্রুত আরও কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বসতভিটাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভাঙন যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে অল্প কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এখনই বড় পরিসরে ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন দেখা দেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ৭০০টি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ভাঙনরোধে কাজ শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, তিস্তার স্রোত এখনো ভাঙনপ্রবণ এলাকাটির জন্য বড় হুমকি হয়ে আছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িকভাবে কয়েকশ জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা নয়—কাচাড়ীপাড়াকে তিস্তার ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।