জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৪৪:৩৬
জামালগঞ্জে ঠেলাগাড়ি চালক হামিদ হত্যার ঘটনায় অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ (৪৯) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. সাদিকুর মিয়া (৪৫)। তিনি উপজেলা সদরের নয়াহালট গ্রামের আব্দুল ওজুদ মিয়ার ছেলে। সাদিকুর মিয়া পেশায় অটোরিকশা চালক এবং আগে ঠেলাগাড়ি চালাতেন।
শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাদিকুর মিয়াকে শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের নিহত ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদের শ্যালিকার সঙ্গে সাদিকুর মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানতে পারেন আব্দুল হামিদ। এরপর তাকে হত্যা করে লাশ একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন আব্দুল হামিদ। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা উৎস খুঁজতে গিয়ে ঝোপের ভেতরে লাশের সন্ধান পান। পরে ধরা পড়ার ভয়ে সাদিকুর মিয়া গত ৪ মার্চ গভীর রাতে অটোরিকশায় করে লাশটি ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রামের কাছে দোলতা নদীর সেতুর দক্ষিণ পাশে জামালগঞ্জ-নওমৌজা পাকা সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় বলে পুলিশ জানায়।
পরদিন ৫ মার্চ সকালে পথচারীরা সড়কের পাশে একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা লাশটি নিখোঁজ ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদের বলে শনাক্ত করেন। এর আগে তিনি প্রায় পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে জামালগঞ্জ-লালবাজার সড়কের পাশের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করে লাশ বহনকারী একটি অটোরিকশা শনাক্ত করা হয়। পরে সাদিকুর মিয়াকে শনাক্ত করে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী বলেন, “ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অটোরিকশা চালক সাদিকুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”