নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:৩১:৫৫
টুঙ্গিপাড়ায় আধুনিক প্রযুক্তিতে মরিচ চাষে বিপ্লব, আশাতীত ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরিচ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে উৎপাদিত মরিচের আশাতীত ফলনে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টায় উপজেলার কুশলি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাশুরিয়া গ্রামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের “মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় এক বিশাল মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর তত্ত্বাবধানে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএই, গোপালগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) আবুল বাশার মিয়া এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার।
মাঠ দিবসে প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে কৃষকরা আধুনিক চাষ পদ্ধতির বাস্তব সুফল প্রত্যক্ষ করেন। প্রদর্শনীভুক্ত এক সফল কৃষক তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে এবার মরিচের আশাতীত ফলন পেয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে রোগবালাই কম হয়েছে এবং উৎপাদন খরচও আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আমার ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরাও এখন এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মসলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আরও লাভজনক করা সম্ভব। টুঙ্গিপাড়ার এ সাফল্য জেলার অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
মাঠ দিবসে সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ (এসএএও) এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, রোগবালাই দমন এবং উন্নত জাতের মসলা চাষে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। ভবিষ্যতেও কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।