ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ মে ২০২৬ দুপুর ০২:৩৮:৪৭
ফুলপুরে মানবেতর দিনযাপন করছে মুচি সম্প্রদায়
ময়মনসিংহের ফুলপুরে মানবেতর দিনযাপন করছে পৌরসভার মুচি সম্প্রদায়ের লোকজন। ফুলপুর পৌরসভার মাগন ফুলপুর নামক এলাকার ঋষি পাড়ায় তাদের বসবাস। পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, গোল চত্ত্বর ও আমুয়াকান্দা মোড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাই, সোল লাগানো ও পলিশের কাজ করেই চলে তাদের সংসার।
সংখ্যায় তারা প্রায় ২০ জন। নিয়মিত জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ করেন রণজিৎ ঋষি, বিরেন ঋষি, সুনিল ঋষি, সুবাস ঋষি, নিবারন ঋষি, পঁচু ঋষি, বম্বল ঋষি, সুশীল ঋষি, বাক্কা ঋষি, পুলক ঋষি, মন্টু ঋষি, নিপেন্দ্র ঋষি, শ্রীবিন্দ ঋষি, প্রদীপ ঋষি, গিরিন্দ্র ঋষি, পরেশ ঋষি ও পুলক ঋষি।
বংশপরম্পরায় বৈষম্যের শিকার হিন্দু সংখ্যালঘু ওই মুচি সম্প্রদায়ের একজন রণজিৎ ঋষি। স্ত্রী ও চার কন্যাকে নিয়েই চলছে অভাব অনটনের সংসার। নিজের কোনো জায়গাজমি নেই। অন্যের জমিতে তৈরী একটি পুরোনো টিনসেট ঘরেই থাকেন।
বর্তমানে মানুষজন বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত থাকায় তার দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। সারাদিন জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ করে ইনকাম করেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এ টাকা দিয়েই চালান পুরো সংসার।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রণজিৎ ঋষি বলেন, পরের জমিতে থাকি। জানিনা কখন যে তাড়িয়ে দেয়। জুতা সেলাইয়ের কাজে যেদিন কামাই ভাল হয়, সেদিন বাজার-সদাই করে পরিবারকে খাওয়াই। আর কামাই না হলে উপোস থাকি।
অন্যের জমিতে বসবাসকারী পুলক ঋষি বলেন, এখন কামাই রোজগার একদম কম। বউ বাচ্চা নিয়ে খুবই বিপদে আছি। জুতা সেলাইয়ের কাজে যে পরিমান টাকা ইনকাম হয় তাতে সংসার চলে না। জানিনা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন কোনোদিন হবে কি-না।
পঁচু ঋষি বলেন, অন্যের জমিতে টিনসেটের একটি ভাঙ্গা ঘরে পরিবার নিয়ে থাকি। বসবাসে খুবই কষ্ট হয়। পৌরসভা থেকেও কোনো সুযোগ সুবিধা পাইনা। জুতা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালানোই অসম্ভব।