কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:২৯:৩৩
কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে ডুবছে ধান-ভুট্টা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
টানা ছয় দিনের বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম-এ পাকা বোরো ধান ও ভুট্টার খেত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে মাঝারি ধরনের ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, ঘরবাড়ি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ি, উলিপুর, চিলমারী, রাজারহাট, রৌমারী ও রাজিবপুর-এর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নদীবেষ্টিত এই জেলায় দুধকুমার নদী, গঙ্গাধর নদী, ব্রহ্মপুত্র নদী, তিস্তা নদী ও ধরলা নদী-সহ ১৬টি নদ-নদীর কারণে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে আগাম বোরো ধান চাষ হয়ে থাকে। এসব এলাকার পাকা ধান ও ভুট্টা বর্তমানে পানির নিচে চলে গেছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পদ্মারচর এলাকার কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে পাকা ধান ও ভুট্টার খেত ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকের ক্ষেতেই ঝড়ের কারণে ফসলের পাশাপাশি বসতঘরের ক্ষতিও হয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের স্থানীয়রা বলেন, দুধকুমার নদীবেষ্টিত এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধানসহ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে বল্লবেরখাস ইউনিয়নের কামারের চর এলাকায় রাতের ঝড়ে কয়েকটি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্যা আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং উজান থেকে ঢল নামলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিম্নাঞ্চলের জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকেরা অনেক জায়গায় ধান কাটতে পারছেন না। রোদ না থাকায় কাটা ফসল শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর-এ আগাম ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলার তালিকা প্রস্তুত শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং নদীর পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।